বাংলাদেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাম্প্রতিক সময়ে এক উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, গ্রুপিং এবং ‘গুপ্ত’ নামক এক রহস্যময় আতঙ্ক মিলিয়ে শিক্ষাঙ্গনে ছড়িয়ে পড়েছে ভয়, অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা। যে ক্যাম্পাসগুলো হওয়ার কথা ছিল জ্ঞানচর্চা ও সৃজনশীলতার কেন্দ্র, সেগুলোই ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছে উত্তেজনা ও সংঘাতের ক্ষেত্র হিসেবে।
সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা চায় একটি নিরাপদ ও শান্ত পরিবেশ, যেখানে নির্ভয়ে ক্লাস করা, পরীক্ষা দেওয়া এবং ভবিষ্যৎ গড়া সম্ভব হবে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন—প্রায়ই রাজনৈতিক বিরোধের জেরে সংঘর্ষ, মারামারি এবং ক্ষমতার প্রদর্শন শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশকে ব্যাহত করছে।
বিশেষ করে ‘গুপ্ত’ শব্দকে ঘিরে তৈরি হওয়া আতঙ্ক শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে ভয়ের সঞ্চার করেছে। এটি ঠিক কী বা কারা—তা স্পষ্ট না হলেও এর প্রভাব বাস্তব। অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মনে করছেন, এই ধরনের অদৃশ্য ভয় ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীলতা বাড়াচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি করছে।
মতপার্থক্য গণতান্ত্রিক সমাজের একটি স্বাভাবিক দিক হলেও তা কখনোই সহিংসতায় রূপ নেওয়া উচিত নয়। শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক চর্চা থাকতে পারে, তবে তা হতে হবে যুক্তিনির্ভর, সহনশীল ও শান্তিপূর্ণ। মারামারি বা সংঘর্ষের মাধ্যমে কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান আসে না; বরং তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
এদিকে শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে, তারা কোনো ধরনের সহিংসতা চায় না। তাদের দাবি, শিক্ষাঙ্গনকে রাজনীতি ও সংঘাতমুক্ত রেখে একটি নিরাপদ ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
তাজিদুল ইসলাম বলেন, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান
,সচেতনতা বৃদ্ধি ও ইতিবাচক ছাত্ররাজনীতি চর্চা, প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ ও নজরদারি, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংলাপ ও সহনশীলতা বৃদ্ধি।
শিক্ষাঙ্গন কখনোই সংঘাতের জায়গা হতে পারে না। এটি স্বপ্ন গড়ার স্থান, ভবিষ্যৎ তৈরির জায়গা। সেই পরিবেশ রক্ষা করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।





