ছাতকে শিক্ষক ও জনবল সংকটে ব্যাহত প্রাথমিক শিক্ষা -২৫৫ পদ শুন্য।

ছাতক(সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় দীর্ঘদিনের শিক্ষক ও জনবল সংকটে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক ও সহায়ক কর্মচারীর অভাবে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং শিক্ষার মান বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া নৈশ্য প্রহরী না থাকায় অনেক বিদ্যালয়ে চুরি সংগঠিত হচ্ছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১৮৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী রয়েছে ৩২ হাজার ৯২২ জন। এসব প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে শিক্ষক শূন্যপদের সংখ্যা ১৫৩টি। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে ৫৭টি এবং সহকারী শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে ৯৬টি।
এছাড়া বিদ্যালয়গুলোতে দপ্তরী পদ শূন্য রয়েছে ৯৩টি। শুধু বিদ্যালয় নয়, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসেও বিরাজ করছে জনবল সংকট। সেখানে অফিস সহকারী পদ ৩টি, অফিস সহায়ক পদ ১টি এবং উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার পদ ৫টি শূন্য রয়েছে। যেখানে মোট ৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকার কথা, সেখানে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র ২ জন।
সব মিলিয়ে গত ১৮ বছর ধরে এ উপজেলায় শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা, পিয়ন ও দপ্তরীসহ মোট ২৫৫টি পদ শূন্য রয়েছে বলে জানা গেছে।
সূত্র আরও জানায়, চলতি বছরে প্রায় ৯০ জন নতুন শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তারা যোগদান করলেও ৬৩টি শিক্ষক পদ শূন্য থাকবে। পাশাপাশি অন্যান্য পদে আরও ১০২টি শূন্যপদ রয়ে যাবে।
এ অবস্থায় প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা চরম সংকটে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা। অনেক বিদ্যালয়ে এক বা দুইজন শিক্ষক দিয়ে একাধিক শ্রেণির পাঠদান পরিচালনা করতে হচ্ছে, যা শিক্ষার গুণগত মানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলার একাধিক উচ্চ বিদ্যালের শিক্ষকরা জানিয়েছেন, প্রাইমারি থেকে আসা বেশিরভাগ শিক্ষার্থীরা বাংলা পড়তে পারে না- যোগ বিযোগের মত সহজ অংকেও দুর্বল। দীর্ঘদিন যাবত তাদের কে নাম মাত্র ফাস দেখিয়ে পাটানো হচ্ছে। যে কারণে এই প্রভাব পরতেছে উচ্চ বিদ্যালয়গুলোর উপর।

শিক্ষক ও জনবল সংকটের সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহাজাহান মিয়া বলেন, বিষয়টি আমরা প্রায়ই লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করে আসছি। এ বছর নিয়োগপ্রাপ্ত ৯০ জন শিক্ষক যোগদান করলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হবে। এছাড়া পর্যাক্রমে অন্যন্য পদ সমুহে নিয়োগ দেওয়া হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।

এই সংবাদটি 22 বার পঠিত হয়েছে