মোঃ তাজিদুল ইসলাম::
সুনামগঞ্জ জেলায় পল্লী বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং এখন জনদুর্ভোগের নতুন নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। জেলার প্রতিটি উপজেলায় বিদ্যুৎ সংকট এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৮ ঘণ্টাই থাকছে না বিদ্যুৎ। বাকি সময়টুকুতেও মিলছে না স্বস্তি—১৫ থেকে ২০ মিনিট পরপর বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার ফলে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। সামনে ২১ এপ্রিল শুরু হতে যাওয়া এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষা ঘিরে তাদের উদ্বেগ এখন চরমে। সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে দিনের বেলায় সীমিত সময়ের মধ্যে প্রস্তুতি সারার চেষ্টা করছে, যা পর্যাপ্ত নয় বলে জানায় তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক সময় টানা ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। আবার বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো ত্রুটি দেখা দিলে তা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ধীরগতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। অভিযোগ কেন্দ্রে যোগাযোগ করেও দ্রুত সাড়া না পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন গ্রাহকেরা।
স্থায়ী বাসিন্দা ও ছাতক উপজেলা প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক কাজী রেজাউল করিম রেজা বলেন,
“এক সময় পল্লী বিদ্যুতের সেবা সন্তোষজনক ছিল। কিন্তু এখন পরিস্থিতি খুবই খারাপ। কয়েক দিন ধরে বিদ্যুৎ শুধু আসা-যাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। টানা কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ ব্যবহার করা যাচ্ছে না।”
শিক্ষার্থীদের কণ্ঠেও একই হতাশা। একাধিক এসএসসি পরীক্ষার্থী জানায়,
“গত দুই মাস ধরে নিয়মিত লোডশেডিং চলছে। সন্ধ্যার পর পড়াশোনা করা যায় না। অন্তত রাতে ১-২ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পেলে আমরা ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে পারতাম।”
অভিভাবকরাও পড়েছেন চরম দুশ্চিন্তায়। ছাতক উপজেলা প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব মোঃ খালেদ মিয়া জানান, সন্তানদের পড়াশোনা ঠিকভাবে করাতে না পারায় তারা মানসিক চাপে রয়েছেন। অথচ নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেও সেবা না পাওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে গ্রাহকদের মধ্যে।
এদিকে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ সমস্যার বিষয়টি স্বীকার করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে গড়ে ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। ভৌগোলিক অবস্থান ও দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—যেখানে বিদ্যুৎই পাওয়া যাচ্ছে না, সেখানে নিয়মিত বিল নেওয়া কতটা যৌক্তিক? দ্রুত এই সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সুনামগঞ্জবাসী।






