দোয়ারাবাজারের বাশতলা–হকনগর শহীদ মিনার এলাকায় সৌন্দর্য রক্ষার দাবি, দ্রুত সংস্কারের আহ্বান

দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের অন্তর্গত বাশতলা–হকনগর এলাকার ঐতিহাসিক শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ একসময় ছিল স্থানীয়দের বিনোদন ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের অন্যতম স্থান। নির্মল পরিবেশ ও মনোরম দৃশ্যের কারণে বিভিন্ন এলাকা থেকে পর্যটক ও দর্শনার্থীরা পরিবার-পরিজন নিয়ে এখানে সময় কাটাতে আসতেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও শান্ত পরিবেশের জন্য এই জায়গাটি অনেকের কাছেই ছিল প্রিয় একটি স্থান। বিশেষ করে শিশুদের জন্য দোলনা ও খেলার ব্যবস্থা থাকায় পরিবারগুলো এখানে এসে আনন্দঘন সময় কাটাতো। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে পর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এই এলাকার পরিবেশ ও সৌন্দর্য ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এলাকার সচেতন নাগরিকরা জানান, পর্যটকরা শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখার জন্যই আসেন না, তারা এলাকার সুন্দর পরিবেশ ও পারিবারিক আনন্দের মুহূর্তগুলো উপভোগ করার জন্যও এখানে আসেন। কিন্তু পরিবেশের অবনতি হওয়ায় এখন অনেকেই আগের মতো এখানে আসতে আগ্রহী নন।
স্থানীয়দের মতে, একটি শিশুর আনন্দ মানে একটি পরিবারের আনন্দ, আর একটি পরিবারের আনন্দ মানেই একটি সমাজের সুখ। তাই শিশুদের জন্য নিরাপদ ও আনন্দময় পরিবেশ বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ বিষয়ে এলাকার সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে দ্রুত এই এলাকার সৌন্দর্য রক্ষা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ শুরু করা হয়। তারা মনে করেন, সবাই যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন, তাহলে বাশতলা–হকনগর শহীদ মিনার এলাকার হারিয়ে যাওয়া সৌন্দর্য আবারও ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
উল্লেখ্য, ঐতিহাসিক দিক থেকেও এই এলাকার গুরুত্ব অপরিসীম। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় এই অঞ্চলটি মুক্তিযোদ্ধাদের ৫ নম্বর সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত ছিল। তাই এই স্থানটি শুধু একটি বিনোদন কেন্দ্র নয়, বরং দেশের গৌরবময় ইতিহাসেরও একটি অংশ।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হলে বাশতলা–হকনগর শহীদ মিনার এলাকা আবারও আগের মতো প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে এবং দর্শনার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হবে।

এই সংবাদটি 45 বার পঠিত হয়েছে

শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো খবর