পাপলু মিয়া, ছাতক:
সুনামগঞ্জ জেলা সিএনজি চালিত অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি. নং চট্রঃ ১৬৯৩/৯৩)-এর আসন্ন ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনকে ঘিরে যখন গোবিন্দগঞ্জ প্রধান কার্যালয়সহ জেলার শ্রমিক মহলে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে, ঠিক তখনই নির্বাচনী অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। সংগঠনের বর্তমান সহ-সম্পাদক ও শ্রমিকদের কাছে সুপরিচিত নেতা মোঃ মুকুট মিয়া প্রবাস যাত্রার কারণে এবারের নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী আগামী ৪ জুন মনোনয়নপত্র দাখিল এবং ২৭ জুন ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এমন সময় সংগঠনের অন্যতম অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য নেতার নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণায় শ্রমিক সমাজে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
মুকুট মিয়া দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি সাবেক প্রচার সম্পাদক, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বর্তমানে সহ-সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংগঠনের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম, শ্রমিকদের অধিকার আদায় এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা শ্রমিক মহলে বিশেষভাবে প্রশংসিত।
সংগঠনের একাধিক সূত্র জানায়, মুকুট মিয়া একজন সৎ, দক্ষ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির সংগঠক হিসেবে পরিচিত। সাধারণ চালকদের বিভিন্ন সমস্যা-সংকটে পাশে দাঁড়ানো এবং সংগঠনকে শক্তিশালী করতে তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য। ফলে তাঁর নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত বলে মনে হয়েছে।
গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বক্তব্যে মুকুট মিয়া বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমি শ্রমিক ভাইদের ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়ে সংগঠনের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছি। তাদের কল্যাণে কাজ করার সুযোগ পাওয়া আমার জন্য গর্বের বিষয়। কিন্তু অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, আমার প্রবাস যাত্রার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে। সে কারণে আসন্ন ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনে অংশ নেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।”
তিনি আরও বলেন, “আমি দেশের বাইরে থাকলেও আমার হৃদয়ের টান সবসময় এই সংগঠন এবং শ্রমিক ভাইদের প্রতি থাকবে। অতীতের মতো ভবিষ্যতেও সংগঠনের কল্যাণে আমার সহযোগিতা ও সমর্থন অব্যাহত থাকবে।”
একই সঙ্গে তিনি আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সকল নেতাকর্মী ও সাধারণ সদস্যদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মনোনয়নপত্র দাখিল থেকে শুরু করে ভোটগ্রহণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হবে।
এদিকে শ্রমিক নেতাদের অনেকে মনে করছেন, মুকুট মিয়ার নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত চলমান নির্বাচনী সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁর সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের একটি বড় অংশ এখন কোন প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেবে, তা নিয়েও শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেক শ্রমিক, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ী মুকুট মিয়ার প্রবাস জীবনের সাফল্য, সুস্বাস্থ্য এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
আসন্ন নির্বাচনে তাঁর অনুপস্থিতি সংগঠনের নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রতিযোগিতাকে নতুন মাত্রা দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।






