পাপলু ছাতক:
সুনামগঞ্জসহ সারাদেশে জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন প্রান্তিক কৃষকরা। ডিজেলের দাম বৃদ্ধিতে সেচ খরচ একলাফে কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের মধ্যে এখন আতঙ্ক বিরাজ করছে ।
বোরো মৌসুমের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ধান খেতে নিরবচ্ছিন্ন সেচের প্রয়োজন হয়। কৃষকদের অভিযোগ, আগে প্রতি ঘণ্টা সেচ দিতে যেখানে ১০০ টাকা লাগত, এখন তেলের দাম বাড়ার কারণে তা ১৫০ টাকায় ঠেকেছে। অনেক এলাকায় পাম্প মালিকরা তেলের সংকটের অজুহাত দেখিয়ে কৃষকদের কাছ থেকে আরও বেশি টাকা আদায় করছেন। বিঘা প্রতি চাষাবাদ ও মাড়াইয়ের খরচও বেড়েছে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত।
সুনামগঞ্জের ছাতক ও দোয়ারাবাজারের হাওর পাড়ের কয়েকজন কৃষকের সাথে কথা বলে জানা যায়, সারের দাম বৃদ্ধির ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি তাদের ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক কৃষক বলছেন, এভাবে খরচ বাড়তে থাকলে চাষাবাদ ছেড়ে দেওয়া ছাড়া আর কোনো পথ থাকবে না। শ্রমিকের মজুরি, পরিবহন খরচ এবং সেচ—সব মিলিয়ে উৎপাদন খরচ যে হারে বাড়ছে, ধান বিক্রি করে সেই আসল টাকা উঠবে কি না, তা নিয়ে তারা সন্দিহান।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে শুধু সেচ নয়, ধান কাটার মেশিন (হারভেস্টার) এবং পরিবহনেও এর বড় প্রভাব পড়বে। এতে চালের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। কৃষি অর্থনীতিবিদদের মতে, কৃষকদের বাঁচাতে ডিজেলের ওপর বিশেষ ভর্তুকি বা সেচ কার্ডের মাধ্যমে সহায়তা না দিলে খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
বর্তমানে তেলের এই বাড়তি দাম কৃষকের নাভিশ্বাসের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত সরকারি তদারকি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন হাওর অঞ্চলের ভুক্তভোগী কৃষকরা।






