ছাতক(সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য প্রণোদনা প্রদানের তালিকা প্রণয়নে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বাদ দিয়ে কৃষি জমি নেই কিংবা বোরো আবাদ করেননি-এমন ব্যক্তিদেরও তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের পরিবারের একাধিক সদস্যের নামও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ছোট-বড় ৬৩টি হাওরে বোরো আবাদ করা হয়। এর মধ্যে চরমহল্লা, কালারুকা, ভাতগাঁওসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রায় ৪৫ হেক্টর বোরো ধান বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রণোদনা দেওয়ার লক্ষ্যে উপজেলা কৃষি বিভাগ কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করে। পরবর্তীতে ওই তালিকা থেকে নির্ধারিত সংখ্যক কৃষকদেরকে প্রণোদনার আওতায় আনা হয়। অভিযোগ উঠেছে, তালিকায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পরিবর্তে অনেক অকৃষক এবং কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন এমন ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এমনকি একই পরিবারের ৪ থেকে ৫ জন সদস্যের নামও তালিকায় রয়েছে, যাদের কেউই বোরো চাষের সঙ্গে জড়িত নন বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। একই অভিযোগ এনে মঙ্গলবার ৯ জুন কালারুকা ইউনিয়নের ঝাওয়া বিলের ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় অর্ধশত কৃষকরা প্রতিবাদ সভা করেছেন।
কালারুকা ইউনিয়নের কৃষক ফরিদ মিয়া বলেন, যাদের নাম কৃষি অফিস নিয়েছিল, তাদের অনেকেই প্রণোদনা পাননি। আমার জানামতে ৫ ওয়ার্ডে যারা নিয়মিত বোরো আবাদ করেন, এমন ১৭-১৮ জন কৃষক বঞ্চিত হয়েছেন।
একই অভিযোগ করেন বনগাঁও গ্রামের আনোয়ার হোসেন ও বাবনগাঁও গ্রামের আকবর আলী,তারা বলেন, আমাদের নাম নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু চূড়ান্ত তালিকায় আমাদের নাম নেই।
কালারুকা, ইসলামপুর, চরমহল্লা, ভাতগাঁও ও নোয়ারাই ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক কৃষকও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, লটারির মাধ্যমে প্রণোদনাপ্রাপ্ত কৃষক নির্বাচন করা হয়েছে। তবে ক্ষুব্ধ কৃষকদের ভাষ্য, মনে হচ্ছে লটারিতে প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে অকৃষকরাই ভাগ্যবান হয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার মৈশাপুর এলাকায় কোনো হিন্দু পরিবার না থাকলেও কৃষি অফিসের অস্থায়ী কর্মচারী রাজু চন্দ্রের নাম তালিকায় রয়েছে। এছাড়া স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতাকর্মীর আস্থাভাজন ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের একাধিক সদস্যের নামও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একাধিক জনপ্রতিনিধি দাবি করেছেন, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মকর্তারা যাচাই-বাছাই করেই তালিকা প্রস্তুত করেছেন। এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তালিকা পুনঃযাচাই ও অনিয়মের তদন্তের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। তাদের মতে, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা যেন সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন, সে জন্য দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তৌফিক হোসেন খান বলেন, তালিকা প্রণয়নের জন্য সময় খুবই সীমিত ছিল। প্রণোদনার অর্থের পরিমাণ প্রকাশ হওয়ার পর তালিকাভুক্ত হওয়ার আগ্রহ অনেক বেড়ে যায়। ফলে তালিকা প্রস্তুতে কিছুটা হিমশিম খেতে হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সহযোগিতায় তালিকা করা হয়েছে।
ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মহি উদ্দিন বলেন, তালিকা প্রস্তুতের সময় আমি এখানে কর্মরত ছিলাম না। বিষয়টি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ভালো বলতে পারবেন,তবে অনিয়মের বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন তিনি।






