সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ চালুর রোডম্যাপের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

মোঃ তাজিদুল ইসলাম::
সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল দ্রুত চালু এবং শিক্ষার্থীদের ক্লিনিক্যাল ক্লাস নিশ্চিত করার দাবিতে সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেছেন সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। একপর্যায়ে সড়কে বাঁশ ফেলে যান চলাচল বন্ধ করে দিলে মহাসড়কের প্রায় চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ হাসপাতাল চালুর একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। কর্মসূচি চলাকালে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান। তবে দাবি পূরণের আশ্বাস না পাওয়ায় তারা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যান।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, জেলার মানুষের বহুল প্রত্যাশিত ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট ১০ তলা হাসপাতাল ভবনটি নির্মাণের পরও দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। যথাযথ ব্যবহার না হওয়ায় ভবনটি ধীরে ধীরে কীটপতঙ্গের আবাসস্থলে পরিণত হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন চিকিৎসাসেবার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ, অন্যদিকে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা বলেন, “আমাদের শিক্ষাজীবন এবং সুনামগঞ্জবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে বছরের পর বছর অবহেলা করা হচ্ছে। হাসপাতালটি চালু হলে জেলার লাখো মানুষ উপকৃত হবেন। কিন্তু বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।”
তারা আরও জানান, ২০২৪ সালের ২৪ জুন এবং পরবর্তীতে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে হাসপাতালটি চালুর কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও হাসপাতাল চালু হয়নি। ২০২৬ সালেও এসে কর্তৃপক্ষ নানা অজুহাত দেখিয়ে সময়ক্ষেপণ করছে বলে অভিযোগ করেন আন্দোলনকারীরা।
অবরোধ চলাকালে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগানে মুখর করে তোলেন মহাসড়ক। তাদের কণ্ঠে উচ্চারিত হয়— “দালালি না, রাজপথ—রাজপথ”, “শিক্ষাজীবন নিয়ে ছিনিমিনি চলবে না”, “দাবি আদায়ের আন্দোলন চলছে, চলবে” এবং “হাসপাতাল চালুর রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে”।
উল্লেখ্য, হাসপাতাল চালু ও ক্লিনিক্যাল শিক্ষা কার্যক্রম নিশ্চিত করার দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের মঙ্গলবার ছিল দশম দিন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি আরও কঠোর করারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

এই সংবাদটি 54 বার পঠিত হয়েছে