ছাতকে স্ত্রী ও পিতার বিরুদ্ধে মাকে হ’ত্যা’র অভিযোগ ছেলের সংবাদ সম্মেলন।

ডেস্ক নিউজ 

সুনামগঞ্জের ছাতকে মায়ের মৃত্যুকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন প্রবাসী আব্দুল হান্নান। তিনি দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের বালিউড়া (চাটুরপাড়) গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে।

৭ জুলাই মঙ্গলবার দুপুরে ছাতক উপজেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, দীর্ঘ প্রায় নয় বছর ধরে তিনি সৌদি আরবে কর্মরত রয়েছেন। ২০২৫ সালের শুরুতে তার বাবা আব্দুল গফুর, মা রংফুল বেগম এবং স্ত্রী ফারজানা বেগম ছাতক শহরের রহমতবাগ আবাসিক এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। সেখানে বসবাসের কিছুদিন পর তার বাবা এক নিকটাত্মীয় নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার মা-বাবার মধ্যে পারিবারিক বিরোধ সৃষ্টি হয় এবং পরবর্তীতে তার মা নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। তিনি অভিযোগ করেন, তার বাবা বিভিন্ন সময় তার মায়ের কাছে টাকা দাবি করতেন এবং মারধর করতেন। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ৪ মে এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

তিনি আরও জানান, প্রতিকার না পেয়ে তার মা একই বছরের ২৩ জুন সুনামগঞ্জের আমল গ্রহণকারী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার বাবার বিরুদ্ধে একটি সিআর মামলা দায়ের করেন, যা বর্তমানে তদন্তাধীন।

আব্দুল হান্নান বলেন, তিনি বিদেশে থাকা অবস্থায় জানতে পারেন তার মা ছাদ থেকে পড়ে মারা গেছেন। খবর পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে গেলে তা গ্রহণ করা হয়নি। সে সময় পুলিশ জানায়, ঘটনাটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা হিসেবে রেকর্ড হয়েছে। পরে তিনি জানতে পারেন, ওই মামলাটি পুলিশ নয়, বরং তার বাবা বাদী হয়ে দায়ের করেছেন। বিষয়টি তাকে বিভ্রান্ত করেছে এবং শুরু থেকেই তদন্ত নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো অভিযোগ করেন, ঘটনার পর মরদেহ উদ্ধারের আগেই ঘটনাস্থলে পানির ট্যাপ খুলে দিয়ে আলামত নষ্টের চেষ্টা করা হয়। এছাড়া তার মায়ের ব্যবহৃত চাবির গোছা ও স্যান্ডেল ঘরের ভেতরে পাওয়া যায় এবং শয়নকক্ষের দরজার পর্দায় রক্তের দাগ পাওয়া যায়, যা পুলিশ জব্দ করেছে। এসব বিষয় স্বাভাবিক মৃত্যুর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তার বাবার দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্যে গুরুতর অসঙ্গতি রয়েছে। থানায় দেওয়া আবেদনে তার বাবা দাবি করেন, শব্দ শুনে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে তার স্ত্রীকে নিচে পড়ে থাকতে দেখেন এবং ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। কিন্তু পরে আদালতে দায়ের করা এক মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, তিনি হাসপাতালে গিয়ে ঘটনার বিষয়ে জানতে পারেন। একই সঙ্গে তিনি থানায় রেকর্ড হওয়া অপমৃত্যুর মামলাকে মিথ্যা ও বানোয়াট দাবি করে নিজের স্বাক্ষর জাল হওয়ার অভিযোগও করেন। এসব পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পুরো ঘটনাকে আরও রহস্যজনক করে তুলেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।

আব্দুল হান্নানের দাবি, ঘটনার সময় তার স্ত্রী ফারজানা বেগমও বাসায় উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, তার বাবা ও স্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী তার মা নাতিকে নিয়ে ছাদে বরই শুকাতে গিয়ে পড়ে যান। কিন্তু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তিনি দেখেছেন, ছাদের চারপাশে প্রায় তিন ফুটের বেশি উঁচু পাকা রেলিং রয়েছে। তার মতে, বয়স ও শারীরিক অবস্থার বিবেচনায় তার মায়ের পক্ষে দুর্ঘটনাবশত কিংবা স্বেচ্ছায় ওই রেলিং অতিক্রম করে পড়ে যাওয়া অত্যন্ত অস্বাভাবিক।

তিনি অভিযোগ করেন, তার স্ত্রী ও বাবাসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন মিলে প্রথমে তার মাকে ঘরের ভেতরে হত্যা করে পরে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বা আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন। এ ঘটনায় তার বাবা, স্ত্রী এবং স্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে তিনি দৃঢ় সন্দেহ প্রকাশ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন রাখেন, পারিবারিক বিরোধ ও বিচারাধীন মামলার পরও কীভাবে তার বাবা অপমৃত্যু মামলার বাদী হলেন এবং পরে আদালতে পৃথক মামলা দায়ের করলেন, অথচ পরিবারের অন্য সদস্যদের বিষয়টি জানানো হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি পুলিশ প্রশাসন, তদন্ত সংস্থা, বিচার বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তার মা রংফুল বেগমের মৃত্যুর ঘটনার নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গভীর তদন্ত, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের যথাযথ মূল্যায়ন এবং প্রকৃত দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান। এ বিষয়ে তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা এসআই মোফাখারুল তার উপর আনিত অভিযোগ অস্বীকার বলেন বিষয়টি এখনো তদন্তাধিন রয়েছে। এছাড়া পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই সংবাদটি 489 বার পঠিত হয়েছে