দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
দীর্ঘ প্রায় ২৩ বছর দায়িত্ব পালনের পর অবশেষে এমপিও তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বরইউড়ি দারুসসুন্নাত বহুমুখী আলিম মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ সৈয়দ হোসেন।
দীর্ঘদিন যাবৎ, বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ, তদন্ত, সাময়িক বহিষ্কার ও পদত্যাগকে কেন্দ্র করে আলোচনায় ছিলেন তিনি। সর্বশেষ সরকারি এমপিও নথিতে তাঁর নাম না থাকায় তাঁর চাকরির অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক পরিণতি স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ মিলেছে Directorate of Madrasha Education-এর সর্বশেষ MPO নথিতে।
১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত August 2026 Monthly Payment Order (MPO)-এ বরইউড়ি দারুসসুন্নাত বহুমুখী আলিম মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে ওই তালিকায় অধ্যক্ষ সৈয়দ হোসেনের নাম বা তাঁর ইনডেক্স নম্বর নেই।
জানা যায়, ২০০৩ সালে বরইউড়ি দারুসসুন্নাত বহুমুখী আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পান সৈয়দ হোসেন। এরপর দীর্ঘ কর্মজীবনে তাঁর বিরুদ্ধে মাদ্রাসার অর্থনৈতিক অনিয়ম, নিয়োগসংক্রান্ত অনিয়ম, জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারসহ বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে।
বিশেষ করে ২০২৪ সালের নিয়োগসংক্রান্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিযোগগুলো নতুন করে সামনে আসে। এ নিয়ে প্রতিবাদ ও আন্দোলনের পর বিষয়টি প্রশাসনিক তদন্তের আওতায় আসে। একপর্যায়ে তাঁকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে বহিষ্কার করা হয়।
পরবর্তীতেপরে বিষয়টি গড়ায় আদালতে, সুনামগঞ্জ জুটিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হয় সি.আর মামলা, মামলা সূত্র ধরে তদন্তে নামে পুলিশ ব্যুরো অভ ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর উত্থাপিত সকল অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট জানান।
এক পর্যায়ে, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ, এলাকাবাসী ও গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে তিনি পদত্যাগ করেছেন বলে স্থানীয়দেন দাবি।
তবে পদত্যাগের পর পুনরায় প্রতিষ্ঠানে ফেরার চেষ্টা এবং পদত্যাগ অস্বীকার করার অভিযোগও ওঠে।
সরকারি নথিতে মিলল চূড়ান্ত চিত্র।
সৈয়দ হোসেনের পদত্যাগপত্রসহ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর পর তাঁর এমপিওভুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এরই প্রতিফলন পাওয়া যাচ্ছে আগস্ট ২০২৬-এর সরকারি MPO তালিকায়।
সর্বশেষ সরকারি এমপিও নথিতে তাঁর নাম ইনডেক্স না থাকায় তিনি প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত কেউ নন বলে মনে করছেন প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়রা মনে করছেন, একটি সরকারি নথির পাতায় নামের এই অনুপস্থিতিই যেন দীর্ঘদিনের আলোচিত অধ্যায়ের শেষ দৃশ্য হয়ে সামনে এসেছে।
বরইউড়ি মাদ্রাসার ঘটনাটি এখন স্থানীয় পর্যায়ে শুধু একজন অধ্যক্ষের চাকরি হারানোর বিষয় নয়; বরং একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, আর্থিক জবাবদিহি ও সুশাসন কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেই দৃশ্যই ফুটে উঠেছে।






