দুই বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত সচিবে চলছে ছাতক পৌরসভা, সেবা পেতে ভোগান্তির অভিযোগ

ছাতক প্রতিনিধি:
দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে স্থায়ী সচিব ছাড়াই চলছে সুনামগঞ্জের ছাতক পৌরসভার প্রশাসনিক কার্যক্রম। একটি এ গ্রেড পৌরসভায় অন্য পৌরসভায় কর্মরত একজন সচিবকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। ফলে একসঙ্গে দুই পৌরসভার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ছাতক পৌরসভার প্রশাসনিক কার্যক্রমে ধীরগতি তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন সেবাগ্রহীতা ও স্থানীয় নাগরিকরা।

বর্তমানে ছাতক পৌরসভার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কানাইঘাট পৌরসভার সচিব শরদিন্দু রায়। ২০২৪ সালের জুন মাস থেকে তিনি এ দায়িত্ব পালন করছেন। নিজের কর্মস্থল কানাইঘাট পৌরসভার পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ছাতক পৌরসভার কার্যক্রমও তাঁকেই সামলাতে হচ্ছে।

নাগরিকদের অভিযোগ, পৌরসভার সেবাগুলো এখন ক্রমেই অনলাইননির্ভর হচ্ছে। ফলে আবেদন গ্রহণ থেকে শুরু করে যাচাই, অনুমোদন ও চূড়ান্ত সেবা প্রদান প্রতিটি ধাপেই দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন। কিন্তু অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সচিব নিয়মিত ছাতক পৌরসভায় উপস্থিত না থাকায় কোনো কোনো আবেদন অনুমোদনের অপেক্ষায় পড়ে থাকছে। এতে অনলাইনে আবেদন করেও দ্রুত সেবা পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা।

শুধু অফিসে গিয়ে কর্মকর্তাকে না পাওয়াই নয়, অনলাইনে আবেদন করার পরও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে এমন অভিযোগও রয়েছে। এতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষকে একই সেবার জন্য একাধিকবার পৌরসভায় যাতায়াত করতে হচ্ছে।

পৌরশহরের গনক্ষাই গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান। তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার অনলাইনে নাগরিক সনদের জন্য আবেদন করার পরও সনদ পেতে তাঁকে পৌরসভা ও উপজেলা কার্যালয়ে চারবার আসা-যাওয়া করতে হয়েছে। মাহফুজুর রহমানের ভাষ্য, অনলাইনে আবেদন করার পর পৌরসভার সচিবের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। সচিব অনুমোদন না করলে আবেদনটি পৌর প্রশাসকের কাছে যায় না। কিন্তু অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব অন্য পৌরসভায় কর্মরত থাকায় তিনি ছাতক পৌরসভায় না থাকায় আবেদনটি আটকে যায়। পরে জানতে পারেন, সংশ্লিষ্ট সচিব পরবর্তী সপ্তাহে ছাতকে আসবেন। তিনি বলেন, পৌর প্রশাসক তাঁকে জানিয়েছেন, সচিবের অনুমোদনের পর আবেদনটি তাঁর কাছে এলেই তিনি মোবাইল থেকেই তা অনুমোদন করে দেবেন। মাহফুজুর রহমানের প্রশ্ন, আগে যেখানে পৌরসভায় গিয়ে এক ঘণ্টার মধ্যেই নাগরিক সনদ পাওয়া যেত, সেখানে অনলাইন ব্যবস্থা চালুর পরও কেন একদিন অপেক্ষা করতে হবে? তিনি আরও বলেন, জরুরি কাজের জন্য নাগরিক সনদটি প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সনদ না পাওয়ায় আমার জরুরি কাজও করতে পারিনি। অনলাইন সেবা চালু হলেও যদি অনুমোদনের জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমল কোথায়?

পৌরশহরের ভাজনামহল এলাকার বাসিন্দা এবং ছাতক পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাসেল মাহমুদ বলেন, ছাতক একটি এ গ্রেড পৌরসভা। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ পৌরসভায় দীর্ঘদিন স্থায়ী সচিব না থাকা দুঃখজনক। তিনি বলেন, অন্য পৌরসভার দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তাকে দিয়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করিয়ে দীর্ঘদিন একটি পৌরসভা চালানো কোনোভাবেই স্বাভাবিক ব্যবস্থা হতে পারে না। নাগরিকদের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করতে ছাতক পৌরসভায় দ্রুত একজন স্থায়ী সচিব নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।

তবে নাগরিক ভোগান্তির অভিযোগ পুরোপুরি মানতে নারাজ ছাতক পৌরসভার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব শরদিন্দু রায়। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুন মাসে ছাতক পৌরসভায় অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে যোগ দেন তিনি। তাঁর মূল কর্মস্থল কানাইঘাট পৌরসভা। এর আগে কুলাউড়া পৌরসভায় সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

শরদিন্দু রায় বলেন, সপ্তাহে কোনো কোনো সময় দুই দিন এবং কোনো কোনো সপ্তাহে তিন দিন ছাতক পৌরসভায় অফিস করেন। যেদিন তিনি ছাতকে থাকেন না, সেদিন জরুরি কোনো কাজ থাকলে পৌরসভার কর্মচারীরা তাঁকে জানালে কানাইঘাট থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন। তিনি বলেন, দেশের অনেক পৌরসভাতেই বর্তমানে সচিবের পদ শূন্য রয়েছে। এরপরও ছাতক পৌরসভার জরুরি কাজসহ তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের চেষ্টা করছেন। দুই পৌরসভার দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করতে তাঁর কোনো অসুবিধা হচ্ছে না। নাগরিকদের ভোগান্তির বিষয়ে তিনি বলেন, নাগরিকদের কোনো ধরনের ভোগান্তি হচ্ছে না। তবে অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো আবেদন বাকি থেকে যেতে পারে।

এদিকে ছাতক পৌর প্রশাসক মো. মহি উদ্দিন বলেন, ছাতক পৌরসভা একটি বড় ও এ গ্রেডের পৌরসভা। সে হিসেবে এখানে একজন স্থায়ী সচিব থাকা অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত পৌরসভার নাগরিক সেবা নিয়ে কোনো ধরনের ভোগান্তি বা অভিযোগ তাঁর কাছে আসেনি। দেশের অনেক পৌরসভাতেই বর্তমানে সচিবের পদ শূন্য রয়েছে। তারপরও নাগরিকদের সেবা নিশ্চিত করতে পৌর প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক অসীম চন্দ্র বনিকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেন।

এই সংবাদটি 70 বার পঠিত হয়েছে