ছাতকে সাত বছর লুকিয়ে রাখা গাড়ী নিয়ে তুলপার।

ডেস্ক নিউজ
সুনামগঞ্জের ছাতক সরকারি বহুমুখী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি গাড়ী নিয়ে উপজেলা জুড়ে তোলপাড় চলছে। ৭ বছর গোপন রাখার পর সম্প্রতি গাড়ীটি প্রকাশ্যে নিয়ে আসায় উপজেলা জুড়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা।

জানাযায়, ২০১৮ সালে ছাতক লাইম ষ্টোন ইম্পোটাস গ্রুপের আবেদনে ছাতকে আসেন নিটল নিলয় গ্রুপের চেয়ারম্যান আব্দুল মতলিব। এ সময় ছাতক সরকারি বহুমুখী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক তার কাছে বিদ্যালয়ে উন্নয়ন কাজে সহযোগীতা করার আহবান জানান। আবেদনে সাড়া দিয়ে আব্দুল মতলিব বিদ্যালয়ে একটি গাড়ি উপহার দেন। কিন্ত গাড়িটি আর স্কুলের কাজে ব্যবহার করা হয়নি। ছাত্রছাত্রীদের ব্যবহারের জন্য উপহার দেওয়া গাড়িটির বিষয় জানতেন না বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। কিন্তু ৫ আগষ্ট আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর গত ৪ সেপ্টেম্বর হঠাৎ গাড়িটি স্কুলের সামনে দেখা যায়। এরপর গাড়িটি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়। বিদ্যালয়ের জন্য দানকৃত গাড়ীটি এতদিন কোথায় ছিল, কেন তা গোপন করা হলো এমন প্রশ্ন উঠেছে সচেতন মহলে। গাড়িটি বিদ্যালয়ের নামে উপহার দিলেও পিচনে ছাতক লাইম স্টোন ইম্পোটাস এন্ড সাপ্লায়ার গ্রুপ লেখা রয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও ছাতক সরকারি বহুমুখী মডেল উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি শামীম আহমদ চৌধুরী, প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম ও সাবেক এক প্রধান শিক্ষকের জানা ছিল। ছাতক সরকারি বহুমুখী মডেল উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি শামীম আহমদ চৌধুরীর ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে বিশস্ত সুত্র জানিয়েছে গাড়িটি শামিম আহমদ চৌধুরীর গ্যারেজেই ছিল। স্কুলে জায়গা না থাকায় স্কুল কর্তৃপক্ষই সেখানে রাখেন। কিন্তু এই সময়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম ও সাবেক এক প্রধান শিক্ষক গাড়িটি স্কুলের সামনে নিয়ে আসার পর থেকেই জনমনে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।

সুত্র জানায়, গাড়ীটি স্কুলে নিয়ে আসার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সাথে একটি বৈঠক করেন প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম ও সাবেক এক প্রধান শিক্ষক। এত পর পর গাড়িটি নিয়ে আসা হলে নানা প্রশ্ন উঠতে পারে বলেও আলোচনা হয় ঐ বৈঠকে।

এ বিষয়ে ছাতক সরকারি বহুমুখী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গাড়িটি স্কুলে রাখার জায়গা না থাকায় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির গ্যারেজে রাখা হয়েছিল। অপর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গাড়িটি মাত্র ৮ জনের ধারন ক্ষমতা, তাই ব্যবহার করা হয়নি।কিন্তু এতদিন গোপন রেখে এখন কেন ফাস করা হল এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন সভাপতি গত জুন মাসেই গাড়িটি নিয়ে আসার কথা বলেছিলেন আমরা জানিয়েছি সময় করে নিয়ে আসব। পিচনের লেখার বিষয়ে তিনি জানান এটা সেই সময়ে ছিল। তবে গাড়িটি এখনো তাদের প্রয়োজন নেই বলেও জানান। এছাড়া  তিনি বলেন গাড়ীর মাইলেজ মিটার ও ভেতর সাইট চেক করলেই বুঝা যাবে এটি ব্যবহার হয়েছে কিনা

এই সংবাদটি 496 বার পঠিত হয়েছে