বগুড়া শেরপুরে এ্যাডভান্স ক্লিনিকে ভূল চিকিৎসায় গৃহবধুর মৃত্যু

বগুড়া প্রতিনিধিঃ- বগুড়ার শেরপুর উপজেলার গাড়িদহ ইউনিয়নের মহিপুর এলাকার এক গৃহবধূ ভূল চিকিৎসার শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন বলে দাবী করেছেন মৃত গৃহবধুর শশুর স্বামী সহ নিকটস্থ আত্মীয়স্বজন। সরেজমিনে জানা যায়, মহিপুর এলাকার স্বপনের স্ত্রী তানিয়া গত রোববার (২২ নভেম্বর) এ্যাপেন্ডিসাইটিজের ব্যাথা নিয়ে তার মায়ের সাথে এসে শেরপুর হাসপাতালের সন্ন্যিকটে এ্যাভভান্স ক্লিনিকে ভর্তি হন। আলট্রাসনোগ্রামের মাধ্যমে তার এ্যাপেন্ডিসাইটিজ নিশ্চিত করেন এবং ঐ দিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যে তার অপারেশান করা হয়। দুইজন চিকিৎসক ডাঃ মোঃ শহিদুল্লাহ দেওয়ান এবং ডাঃ মোঃ মহিদুল ইসলাম রানার সমন্বয়ে এই অপারেশন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন এ্যাডভান্স ক্লিনিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফুল ইসলাম। এদিকে মৃত গৃহবধূর স্বামী, শশুর এবং ফুপু শাশুড়ি বিলকিস বেগম গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, মৃত তানিয়ার মা আমাদের কোনো কিছু না জানিয়ে তানিয়াকে এ্যাপেন্ডিসাইটিজের অপারেশন করানোর জন্য তাকে সঙ্গে নিয়ে শেরপুর এ্যাডভান্স ক্লিনিকে ভর্তি করান এবং ঐদিনই তার অপারেশন করা হয়। এরপর তিন দিন পর (২৫ নভেম্বর ) তানিয়াকে রিলিজ দেয়। রিলিজের পর তাকে বাড়ি নিয়ে আসলে ক্রমান্বয়ে সে আরও অসুস্থ হতে থাকে। এর এক পর্যায়ে তানিয়াকে পূণরায় এ্যাডভান্স ক্লিনিকে নিয়ে গেলে ডাঃ মোঃ মহিদুল ইসলাম রানা তানিয়াকে দেখে সব ঠিক আছে বলে শুধু ব্যাথার ঔষধ দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু বাড়িতে এসে ঐ ঔষধ খাওয়ার পরও কোনো উপশম না হয়ে আরও বেশী অসুস্থ হতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় তানিয়াকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ এন্ড হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় (২রা ডিসেম্বর) বুধবার বিকাল ৩টার দিকে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েন তিনি। মৃত গৃহবধূ তানিয়ার স্বামী শশুর ফুপু শাশুড়ি সহ নিকটস্থ আত্মীয়স্বজনেরা জোর দাবি জানিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন ভূল অপারেশনের ফলেই তানিয়ার মৃত্যু হয়েছে এবং আমরা এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।

এ বিষয়ে বগুড়া সিভিল সার্জনের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, মৃত ব্যক্তি পরিবারের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে অভিযোগ করলে আমরা ব্যবস্থা নিবো এবং এ বিষয়ে শেরপুুর উপজেলা স্বস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুল কাদের কে অবগত করতে বলেন। ডাঃ আব্দুল কাদের কে জানালে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কোন অভিযোগ পায়নি।

এই সংবাদটি 189 বার পঠিত হয়েছে