শাহজাহান আলীঃ রাজশাহী বিভাগীয় প্রতিনিধিঃ
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার তিহরিয়া মৌজার সরকারি জলমহালকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে ১জন নিহত ১০জন আহত হওয়ায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
জানা যায়, উপজেলার আটমূল ইউনিয়নের তিহরিয়া গ্রামের আব্দুর রশিদ এর ছেলে অত্র ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামীলীগেড সভাপতি মোঃ রায়হান আলী তিহরিয়া উত্তর পাড়া মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির মাধ্যমে তিহরিয়া মৌজার ১ (এক) একর ৮ শতক জলমহাল সরকারি বিধি মোতাবেক ডেকে নিয়ে মৎস্য চাষ করে আসছে। উক্ত জলমহালটি নিয়ে গ্রামের দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসার এক পর্যায়ে গত শনিবার সকাল অনুমান ৮টার দিকে তফসিল বর্ণিত জলমহাল নিয়ে একই গ্রামের আব্দুস সালাম,আব্দুল জোব্বার, রাকিব হোসেন গং গ্রামের একটি দোকানের সামনে দেশি অস্ত্র- শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ১৫/২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল নিয়ে ইঘপি সদস্য গংদের উপর অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি ভাবে মারপিট করে গুরুতর আহত করে।মার পিটের রেজ্জাকুল ইসলাম চিৎকার দিয়ে মাটিতে লুকিয়ে পরে।ইউপি সদস্য রায়হান তাকে উদ্ধার করতে আসলে তার উপর পাল্টা হামলা চালায়।
এ সময় উভয় পক্ষের ১০ জন আহত হয়। আহতরা হলেন- তিহাইল গ্রামের ইউপি সদস্য ও আওয়ামীলীগের ওয়ার্ড সভাপতি মোঃ রায়হান আলী (৪০)ও তার ফুফাতো ভাই রেজ্জাকুল ইসলাম, আফজাল হোসেন(৩০),বুলু মিয়া(৫৫),রাজু মিয়া (২২), শাহেরা বেগম (৪০),হাসনা বেগম( ৫৫), মজিদা বেগম(৬০) ও আকতার হোসেন গুরুতর আহত অবস্হায় শিবগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ দিকে রেজ্জাকুল ইসলামের অবস্হা আশান্কাজনক হওয়ায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ( শজিমেক) হাসপালের কর্তব্যরত চিকিৎসক রেজ্জাকুলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠান। ঢাকায় একটি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্হায় গত ২৯ নভেম্বর তার মৃত্যু হয় বলে তার পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
আজ সোমবার জানাযা নামাজ শেষে তাকে তিহরিয়া গ্রামে তার পারিবারিক কবর স্হানে তাকে দাাফন করা হয়।
বিষয়টি নিয়ে আওয়ামীলীগ নেতা রায়হানের সাথে কথ নললে তিনি বলেন,আমার মাথায় প্রচন্ড আঘাত লেগেছে। আপনার সঙ্গে কথা বলতে কষ্ট হচ্ছ তবুও বলছি।সরকারি বিধি মোতাবেক জলমহালটি ডেকে নিয়ে সমিতির লোকজন সুন্দর ভাবে মাছ চাষ করে আসছে।দীর্ঘদিন থেকে জলমহালটি নিয়ে ছালাম গংদের সাথে মত বিরোধ চলে আসছে। কিন্তু তারা হঠাৎ করে আমাদের উপর হামলা চালাবে আমি কখনো ভাবতে পারিনি। ওদের হামলায় আমাদের ৭জন লোক গুরুতর ভাবে আহত হয়েছে। তাদের হামলায় আমার ফুফাতো ভাই রেজ্জাকুল মারা গেলো, আমাদেরকে যে ভাবে আহত করেছে তাতে একে একে আমারা সবাই মারা যাব। বিষয়টি নিয়ে থাবায় মামলা দায়ের করেছি। আমি প্রশাসনের নিকট সুষ্ঠু তদন্তের দাবী জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে সালাম গংদের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তাদের সাথে কোন কথা বলা সন্ভব হয়নি।
শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম বদিউজ্জামান এর নিকট সংঘর্ষের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, উক্ত ঘটনায় থানায় মামলা নেয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষ প্রযোজনীয় ব্যবস্হা গ্রহণ করা হবে।






