শাহজাহান আলীঃ রাজশাহী বিভাগীয় প্রতিনিধিঃ
বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহারে বৃষ্টি আক্তার (১৯) নামের এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধ ও পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে স্বামী রমজান আলীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
২১শে নভেম্বর (শনিবার) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বগুড়া আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার পৌর এলাকার চা-বাগান মহল্লায় এই ঘটনাটি ঘটে।
শনিবার দিন দুপুরে নিহতের মা শাহানাজ বেগম বাদি হয়ে থানায় বৃষ্টির স্বামী রমজান ও ননদ স্বপ্নাকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩ বছর আগে উপজেলার সান্তাহার পৌরসভার কলসা গ্রামের মৃত ফারুক হোসেনের মেয়ে বৃষ্টির সাথে চা-বাগান মহল্লার সাইফুল ইসলামের ছেলে রমজান আলীর (২৫) প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। রমজান আলী তার প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়ে বৃষ্টিকে দ্বিতীয় বিয়ে করে। এর পর থেকে তারা চা-বাগান মহল্লায় বক্করের বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করে।
রমজান কখনো হোটেলে কাজ করত আবার কখনো রিক্সা চালাত। আর বৃষ্টি অন্যের বাসায় কাজ করত।
গত বৃহস্পতিবার গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ১৫ হাজার টাকা ঋণ নেয় বৃষ্টি। রমজান এ টাকা বৃষ্টির নিকট থেকে না পাওয়ায় তাকে নির্যাতন শুরু করে।
একপর্যায়ে শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে স্বামী রমজান ও ননদ স্বপ্না মিলে তাকে পিটিয়ে ও গলায় ওড়নার ফাঁস দিয়ে হত্যা করে।
এরপর কৌশলে তারা এই হত্যার ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে স্বামী-ননদ দু’জন মিলে ভ্যানযোগে বৃষ্টিকে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নিলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
সেখান থেকে তারা বৃষ্টির লাশটি বাড়িতে নিয়ে আসে এবং প্রতিবেশীদের বলে স্ট্রোক করে বৃষ্টি মারা গেছে।
তাদের কথায় সন্দেহ হলে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে রমজান আলী দৌড়ে পালাতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে, কিন্তু ননদ লাশ রেখে কৌশলে পালিয়ে যায়।
নিহতের মা শাহানাজ বেগমের দাবি, তার মেয়ের ওপর নির্যাতন চালাত রমজান। তিনি তার মেয়ের হত্যার সুষ্ঠু বিচার চান।
এ ব্যাপারে সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আনিছুর রহমান জানান, শনিবার দুপুরে ওই গৃহবধূর লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান (মেডিকেল) কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। নিহত বৃষ্টির স্বামী রমজানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃষ্টির মা শাহানাজ বেগম দু’জনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।






