সিলেট তথ্যানুসন্ধান ডেস্ক : প্রেমে ব্যর্থ হয়ে ক্ষোভে, দুঃখে হতাশায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লাইভে থাকাকালীন গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন আলহাজ উদ্দিন (১৯) নামের এক যুবক। সে জকিগঞ্জ উপজেলার দরগাবাহারপুর গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) রাত ৯ টার দিকে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের আওতাধীন মোগলাবাজার থানার আলমপুরস্থ ভাড়াটিয়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। তবে কেন সে প্রকাশ্যে এসে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটালো তারও কিছুটা ইঙ্গিত জানিয়ে গেছে ফেসবুকের এক স্ট্যাটাসে। আত্মহত্যার প্রায় ঘন্টা খানিক আগে একটা মেয়েকে দায়ী করে ওই যুবক আবেগঘন ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছিলো। কিন্তু মেয়েটির পরিচয় পাওয়া না গেলেও যুবকের সাথে একটা ছবি মিলেছে।
মেয়েটির ছবি সংযুক্ত ফেসবুক পোস্টে সে লিখে- ‘কিছু মানুষ নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসে। তারা অনেক স্বার্থপর হয় প্রিয় মানুষটার বিষয়ে। সবকিছু দিয়ে তাদের পেতে চায়। আর আমি কোনভাবে পাইনি। চলে যাচ্ছি না ফেরার দেশে। ভালোবেসোনা ঠকে যাবে।’ এ স্ট্যাটাস দেবার প্রায় ঘন্টা সময় পর লাইভে এসে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।
নিহতের চাচা আফজল হোসেন সিলেট তথ্যানুসন্ধান জানান, রাতে বাসায় নিহত আলহাজের মা ও বোন ছিলেন। সে তার মা’কে চা বানানোর কথা বলে রুমে চলে যায়। রুমের ভেতরে সাউন্ডবক্স দিয়ে গান বাজিয়ে আত্মহত্যা করায় কেউ কিছু বুঝেননি। সে গত বছরে আলমপুরস্থ সিলেট কারিগরি স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে বলে তিনি জানান। যদিও আত্মহত্যার কারণ তিনি বলতে চাননি। তবে ফেসবুক লাইভে ‘তুমি সুখে থাকো’ এ কথা বলে আত্মহত্যা করেছে এমনটি জানিয়েছেন।
এদিকে যে আইডিতে এসে লাইভে আত্মহত্যা করেছে তা ফেসবুক কর্তৃপক্ষ কিছু বুঝে উঠার আগেই বন্ধ করে দিয়েছে বলে অনেকেই জানিয়েছেন। এ ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়ায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোগলাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ সাহাবুল ইসলাম ফেসবুক লাইভে এসে যুবকের আত্মহত্যার কথা স্বীকার করে জানান, প্রাথমিকভাবে প্রেমজনিত কারণে এ ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশ ধারণা করছে। লাশ পোস্টমর্টেমে নেয়া হয়েছে। তদন্ত রিপোর্টের পর বিস্তারিত জানা যাবে।






