কোম্পানীগঞ্জে ছুরিকাঘাতে আহত যুবকের মৃত্যু

কোম্পানীগঞ্জে ছুরিকাঘাতে আহত যুবকের মৃত্যু

কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি:- সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে ছুরিকাঘাতে জাকারিয়া (২৫) নামে এক যুবক খুন হয়েছেন। সোমবার (২ নভেম্বর) রাত ৭টার দিকে দুর্বৃত্তদের হাতে ছুরিকাঘাতে আহত হয় জাকারিয়া। পরে তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার মারা যায়।

জাকারিয়া নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার মধ্যনগর গ্রামের শাহ নুরের পুত্র। সে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার টুকেরবাজারে তার এক আত্মীয়ের নিত্যপণ্যের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করত।

এ ঘটনায় নিহতের মামা হাফিজ সগির আহমদ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামী করে কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, সোমবার রাতে বিক্রয় প্রতিনিধি জাকারিয়া বিভিন্ন দোকান থেকে পণ্য বিক্রয়ের ২০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে তৈমুরনগর গ্রাম হয়ে নিজের কর্মস্থলে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে হঠাৎ একটি মোটরসাইকেল থেকে তিন যুবক নেমে তার গতিরোধ করে। এসময় এক যুবক পিছন দিক থেকে জাকারিয়ার পাজরের বাঁ পাশে ছোরা ঢুকিয়ে দেয়। দুর্বৃত্তরা জাকারিয়ার কাছ থেকে একটি মুঠোফোন এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে কোম্পানীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

নিহত জাকারিয়ার মামা এবং কোম্পানীগঞ্জের টুকেরবাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন হাফিজ সগির আহমদ জানান, ‘জাকারিয়া ছিল তাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছেলে। চার বোন এবং দুই ভাইয়ের মধ্যে সে সবার বড়। তাদের পিতা একজন হার্টের রোগী। বড় বোনের বিয়ে হলেও বাকী সবাই পড়ালেখা করে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছেলেটিকে হারিয়ে তারা সবাই ভেঙ্গে পড়েছেন। কীভাবে পরিবার-পরিজন নিয়ে তাদের দিন কাটবে, তা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না।’

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম নজরুল জানান, এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনায় কারা জড়িত, তা বের করার চেষ্টা চলছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেটের ওসমানী হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

এই সংবাদটি 190 বার পঠিত হয়েছে