স্টাফ রিপোর্টারঃ টোকেনের আরেক নাম পুলিশ টোকেন। দেদারছে চলছে চাঁদা আদায় বাণিজ্য আর দালালি। চার চাঁদাবাজদের কারনে সিলেট-তামাবিল হাওয়ে রোড’র অনটেষ্ট সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকরা এখন চরম বিপাকে।
জৈন্তা,গোয়াইনঘাট ও কানাইঘাট তিনটি উপজেলার টোকেন বাণিজ্যের মূল কারিগররা হলেন, টোকন কুদ্দুস জৈন্তাপুর উপজেলার হেমু হাদপাড়া গ্রামের আব্দুল মজিদের পুত্র, টোকন নাজিম পীরেরবাজার হাতুড়া গ্রামের বাসিন্দা ও পীরেরবাজার সিএনজি স্টেনের ভূঁইফোড় শ্রমিক নেতা, টোকন জয়নাল বটেশ্বর বাজার সিএনজি উপ-পরিষদের সাবেক সভাপতি ও সিলেট জেলা সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের বর্তমান জেলার মেম্বার ও ইয়াহিয়া হরিপুর বাজারের বিশিষ্ট চোরাচালান কারবারির গডফাদার এবং একাধিক চোরাচালান মামলার আসামী।
ইতোমধ্যে তাদের বিরুদ্ধে জাতীয়-স্থানীয় দৈনিক পত্র-পত্রিকা, টিভি চ্যানেলসহ অনলাইন নিউজপোর্টালে সংবাদ প্রকাশিত হলেও রহস্যজনক কারনে এখনও তারা আইনের ধরাচোয়ার বাইরে।
পীরের বাজার এলাকার নিজাম উদ্দিন ওরফে টোকন নাজিম। এই চক্রটি দীর্ঘদিন থেকে সিলেট-তামাবিল রোডে চাঁদা আদায় বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় এলাকায় তাদেরকে সকলেই ‘পুলিশ টোকেন’র মালিক হিসেবে চিনে। থানা পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের অতি কাছের লোক এই চার চাঁদাবাজ।
জানা গেছে, হাজার-দেড়হাজার অনটেষ্ট সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে মাসে অন্তত (৮ লাখ) টাকা উর্পাজন হয় তাদের। প্রতি সিএনজি ফোরষ্ট্রোক হতে টোকেন প্রতি হাতিয়ে নেয়া হয় ৫-৭শ’ টাকা হারে। যে চালক তাদের টোকেন ব্যবহার করবেনা তাদের কপালে জুটে মামলা, হামলা ও গাড়ি ছিনতাই। এভাবে সে নিজেও বেশ কয়েকটি সিএনজি ফোরষ্ট্রোক গাড়ির মালিক বনে গেছে।
এদিকে নাজিম উদ্দিন সিলেট নগরীর ট্রাফিক পুলিশ ও শাহপরাণ (রহ.) থানা পুলিশের নামে চাঁদা আদায় করে থাকে। জেলা পর্যায়ে কুদ্দুস আর এসএমপি পর্যায়ে নাজিম। রাতভোর পর্যন্ত তাদেরকে কখনও বটেশ্বর বাজার, পীরের বাজার, সুরমা গেইট পয়েন্ট ও থানা-পুলিশ ফাঁড়িতে দেখা যায়। এমন কোন পুলিশ সদস্য নেই রাতের ডিউটিতে গেলে তার সাথে বসে নাস্তা করেন না। তবে ট্রাফিক পুলিশের ব্যাপারটি তারা গোপনে ছেড়ে ফেলে। ট্রাফিক পুলিশের এক সার্জেন্ট এই মাসোহারা চাঁদা আদায় করে থাকেন। ওই সার্জেন্ট সিলেটের স্থানীয় লোক হওয়াতে অফিস আদালতেও রয়েছে তার আধিপাত্য। অনেক সময় তার বিরুদ্ধে সিনিয়র অফিসাররাও কথা বলতে নারাজ। আর ওই সার্জেন্টকে সহযোগীতা করেন আরেক ট্রাফিক পুলিশ কর্মচারী। অভিযোগ রয়েছে তিনটি উপজেলার প্রত্যেকটি থানা পুলিশ টেবিলে মাসোহারা চাঁদা পৌছে দেয় এই চক্র।
এদের সাথে জড়িত রয়েছে বন্দরবাজার এলাকার ফুটপাতে বসা জুতা বিক্রেতা জয়নাল, আজাদ ও খলিল সহ ভূঁইইফোড় সংবাদকর্মী পরিচয়ধানকারী একাধিক ব্যক্তি।
এতে লক্ষ্য নেই বিআরটি এর কতৃপক্ষেরও। লাইসেন্স বিহীন চালক,মালিকানা নিবন্ধন, ট্যাক্স টোকেন ছাড়াই চালিয়ে দিচ্ছে এসব মোটরযান। তাও গাড়িতে ব্যবহার করা হচ্ছে শুধুমাত্র একটি টোকেন।
প্রশাসনের এমন কর্মকান্ডে দিশেহারা সচেতন মহল। কারন এমনিতেই হাইওয়ে রোডে এসব যানবাহন চলাচলেও রয়েছে বিধি-নিষেধ। কিন্তু কেউ কারো কথা কর্ণপাত করছে না। প্রশাসনিক তৎপড়তার দুর্বলতার কারনে চাঁদা আদায় বাণিজ্য মহামারী রুপ ধারণ করছে! অথচ তাদের কোন বক্তব্য নিতে গেলেই বরাবরের মতো চক্রটি চাঁদাবাজির বিষয় এড়িয়ে যায়।






