সিলেটে রায়হান হত্যা নিয়ে লেখক নুর হোসাইনের মন্তব্য

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রায়হানের পর কি আপনার, আমার পালা ? রায়হানের পর প্রস্তুত থাকুন আপনি। আপনার আশপাশেই ওঁৎ পেতে আছে আকবরদের মতো জানোয়ার।

প্রস্তুত থাকুন- বুভুক্ষু পিশাচের নখরদন্তে ফালাফালা হয়ে,নখ উল্টিয়ে তিলে তিলে যন্ত্রণায় বেওয়ারিশ লাশ হবার জন্য। যেমন অভাগা রায়হান আমার ভাই।
প্রশ্ন হলো?
রায়হান যদি গণপিটুনিতে আহতই হলো তাহলে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলো না?

কেনো রায়হানকে রাত ৩ টা ৯ মিনিটে পুলিশ ফাঁড়িতে নেওয়া হলো? আবার ভোর ৬টায় কাঁধে ভর করে তাকে গাড়িতে উঠানো হলো? রায়হান গণপিটুনির শিকার হলে এসআই আকবর হোসেন ভূইয়া লাপাত্তা হলেন কেনো? (বলা ভালো- নিরাপদ আশ্রয়ে লুকিয়ে রাখা হয়েছে) ফাঁড়ি থেকে “পুলিশ” উধাও হয় কার ইশারায়?
আমি শঙ্কিত। প্রদীপের সুযোগ্য শিষ্যরা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বাংলার আনাচকানাচ।

রায়হান দিয়ে শুরু প্রদীপ-আকবরদের দ্বিতীয় মিশন। তারপর কে? কার পালা? ওরা কাকে বানাবে পরবর্তী কাবাব? তবে কি আমি? তৃতীয় শ্রেণির শ্বাপদেরা নারকীয় উল্লাসে খুবলে খুবলে খাবে আমার মগজ ? হাড় ? কলিজা ? অস্থি ? মজ্জা ? বাঁচাও বাঁচাও চিৎকারে প্রকম্পিত হবে বাতাস। আতঙ্কে সিঁটিয়ে যাবে মানুষ। কেউ এগিয়ে আসবেনা ।

তারপর কোনো এক হাসপাতাল অথবা পরিত্যক্ত স্থান থেকে স্বজনরা সংগ্রহ করবে লাশ। হয়তো সংবাদ শিরোনাম হবো প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায়, কিছুদিন হৈচৈ, বক্তৃতা – বিবৃতি। অতঃপর নতুন নাটক- অভিনব কায়দায় বিকৃত কোনো পৈশাচিকতা। চাপা পড়ে যাবে পূর্বের কাহিনী।
এভাবেই চলতে থাকবে একের পর এক বিভীষণ পর্ব।
আজ আমরা কেউ নিরাপদ নই। ভাই নিরাপদ নয়, বোন নিরাপদ নয়, মা নিরাপদ নয়, শিশু নিরাপদ নয়। বাতাসে লম্পট হাসি। শুয়রের শিস। নেকড়ের প্রসারিত হিংস্র থাবা। তবে কি ক্রমাগত শ্বাপদসঙ্কুল হয়ে উঠছে দেশ? না। আমরা কেউ জানি না এই পৈশাচিকতার শেষ কোথায়। কোন স্টেশনে থামবে অদ্ভুত অন্ধকারাচ্ছন্ন লোমহর্ষক ট্রেন?
আজ এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে দুখিনী দেশ সম্পর্কে আমাকে জিজ্ঞাসা করো না, আমি আকাশ বিদীর্ণ করে বলতে বাধ্য হবো-
ধর্ষিতা বধুর ছিন্ন আঁচল আমার পতাকা, খোকা হারানো মায়ের বুক চাপড়ানো বিলাপ আমার গান, আবরার- রায়হানদের যন্ত্রণা ক্লিষ্ট বিক্ষত শব আমার গরল স্বাধীনতা।

এই সংবাদটি 273 বার পঠিত হয়েছে