পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়ার দাবিতে বিশাল মানববন্ধন

সানোয়ার  হোসেন, গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রতিনিধিঃ-সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলংয়ে অনুষ্টিত ব্যবসায়ী-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা হুশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন সিলেটের পাথর সংশ্লিষ্ট প্রান্তিক জনগোষ্টি কর্মহীন হয়ে ভয়াবহ খাদ্য সংকটের মুখোমুখি। ঘরে ঘরে দূভৃক্ষের পদধ্বণি। কর্মহীন নিরম্ন মানুষগুলি মানবেতর জীবন-যাপনের চরম সীমায় উপনীত। এ অঞ্চলের মানুষকে তাদের মৌলিক অধিকার রোজগার থেকে বঞ্চিত করার কারণে সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয়ে দায়ভার কে নিবে? তারা বলেন স্বার্থান্বেষী মহল হীন স্বার্থ চরিচার্থ করতে জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের রাজনীতি বাঁধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। একটি অঞ্চলের মানুষের কাজের অধিকার, ভাতের অধিকার কেড়ে নেওয়া মানে সে অঞ্চলের সরকারি অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করা। সিলেটের কোটি জনতা মাফিয়া-সিন্ডিকেটের গণবিরোধী এ অপতৎপরতা রুখে দিতে যে কোন ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তত রয়েছে। বক্তারা বলেন মুদ্র অপচয় করে যারা নিম্নমানের পাথর আমদানীর নামে মুদ্র পাচার করছেন এবং সরকারকে ভুল ব

সিলেটের লাখো মানুষের জীবিকা নির্বাহের ক্ষেত্র পাথর কোয়ারী সমূহে পরিবেশ সম্মত ভাবে পাথর আহরনের সুযোগ করে দেওয়ার দাবিতে কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট, ছাতক সহ এ অঞ্চলের ১০ লক্ষাধিক জনগোষ্ঠীর জীবন জীবিকা রক্ষায় বিশাল জনসভা গতকাল মঙ্গলবার (২৪ নভেম্বর) গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং পাথর কোয়ারির সন্নিকটে মামার বাজারস্থ পিউলি মাঠে বৃহত্তর সিলেট পাথর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে এ বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত সভায় বক্তারা জাফলং, বিছনাকান্দি, ভোলাগঞ্জ, লোভা, উৎমা, শ্রীপুর সহ সংশ্লিষ্ট এলাকার যুগ যুগ ধরে পাথর আহরণের মাধ্যমে লাখ মানুষের কর্মসংস্থান পাথর কোয়ারি বন্ধের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ সংকটের কথা উল্লেখ করে আরও বলেন সিলেটের পাথর কোয়ারিতে পাথর আহরণ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বংশ পরম্পরায় জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। আহরিত এ পাথরের রয়্যালটি বাবত সরকার প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা রাজস্ব পেয়ে আসছিল।
সিলেটের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি পাথর আহরণ এবং বিপণন হঠাৎ করে বন্ধ করে দেয়ায় এক বছর ধরে সিলেটের উত্তরাঞ্চলের বৃহৎ জনগোষ্ঠী অবর্ণনীয় দুঃখ কষ্টে নিপতিত হয়েছে।
বক্তারা বলেন, আহরিত এ পাথর বিপনের সাথে সংশ্লিষ্ট হাজার হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, স্টোন ক্রাশার, মিল মালিক, পাথর ব্যবসায়ী, ট্রাক-ট্রাক্টর শ্রমিক, বার্জ, কার্গো, নৌকা মালিক শ্রমিক, পরিজন নিয়ে জীবীকা নির্বাহ করে আসছিলেন। সিলেটের এ পাথরের গুনগত মান উন্নত হওয়ায় দেশের নির্মাণ শিল্পের অন্যতম কাচামাল হিসেবে এ পাথর ব্যবহার হয়ে আসছিল। বুয়েট, শাহজালাল ইউনির্ভাসিটি সহ দেশের সকল প্রকৌশল সংস্থার মান বিবেচনায় এ পাথরের গুণগত মান এশিয়া মাহাদেশের মধ্যে শ্রেষ্ট মনোনীত হওয়ায় নির্মিত অবকাঠামোর মজবুত ও স্থায়ীত্ব সর্বজন বিবিধ। খয়স্্েরাতা প্রবাহিনীর ভাটি অঞ্চলে অবস্থিত এ অঞ্চলে প্রতিবছর উজান থেকে লক্ষ লক্ষ টন পাথর নেমে এসে কোয়ারী অঞ্চল পরিপূর্ণ হয় এবং এ পাথরই শ্রমিকেরা উত্তোলন করে দেশের নির্মাণ শিল্পে যোগান দিয়ে আসছিলেন।
বক্তারা আরও বলেন অত্যন্ত পরিতাপের সাথে জানাতে হচ্ছে যে, কয়েক বছর ধরে পাথর কোয়ারী সমূহে পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়া এ অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ পরিজন নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কর্মহীন এ প্রান্তিক জনপদে আজ দূভিক্ষের পদধ্বনি। পাথর সংশ্লিষ্ট হাজার হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আজ সর্বশ্বান্ত। হাজার হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ব্যাংক লোন নিয়ে ব্যবসা শুরু করে আজ দেউলিয়া। সিলেটের পাথর কোয়ারী বন্ধ করে দেওয়ায় মানুষের জীবন জীবিকার উপর যে মারাত্মক দুর্বিসহ অবস্থার সৃষ্ট হয়েছে তা বর্ণনাতীত। একটি বৃহৎ অঞ্চলের ১০ লক্ষাধিক মানুষের প্রাচীন এ জীবিকা বন্ধ হওয়ায় এর অর্থনৈতিক ক্ষতি হাজার হাজার কোটি টাকা। প্রান্তিক লাখো মানুষের জীবিকা বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি পাথর বিপননের সাথে সম্পৃক্ত ১০ সহস্রাধিক ব্যবসায়ী ঋণ খেলাপী হয়ে দেনা শোধ করতেনাপেরে পলাতক জীবন যাপন করছেন। পাথর পরিবহনে সম্পৃক্ত হাজার হাজার ট্রাক ও ট্রাক্টর মালিক, শ্রমিক রোজগার বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। পাথরকে উপজীব্য করে গড়ে ওঠা স্থানীয় বিভিন্ন হাট বাজার ও বিপনী কেন্দ্রগুলোতে পন্য কেনা বেচা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজারো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও উদ্যেক্তা কঠিন ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে পড়েছেন।
নিজ দেশে উন্নতমানের পাথর রেখে বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় করে পাথর আমদানীর মাধ্যমে ক্ষতি সাধিত হচ্ছে ইটের খোয়া, যার ফলে আশংকা দেখা দিয়েছে দুর্ঘটনার। এমতাবস্থায় সিলেটের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে রক্ষা এবং এ অঞ্চলের মানুষের জীবন জীবিকার স্বার্থে ও দেশের নির্মাণশিল্প ও অর্থনীতির স্বার্থে এখানকার পাথর কোয়ারী সমূহে পরিবেশ সম্মত ভাবে পাথর আহরনের সুযোগ প্রদান জরুরী।
সভায় সিলেটের ১০ লক্ষাধিক পাথর সংশ্লিষ্ট জীবিকা নির্বাহকারী ও তাদের পরিজনদের বাঁচাতে অবিলম্বে পাথর আহরণের সুযোগ প্রদানের দাবি জানানো হয়। ন্যায্য এ দাবি আদায়ের স্বার্থে প্রয়োজনে সিলেটে অবরোধ-ধর্মঘটের মত কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে সভায় হুশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়। সভায় বুধবার প্রধান মন্ত্রীর বরাবরে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে কোয়ারী সচলের দাবিতে স্বারক্ষক লিপি প্রদান এবং ৩০ নভেম্বর সিলেটের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে মানবন্ধনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
বৃহত্তর সিলেট পাথর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ আয়োজিত বিক্ষোভ সভায় সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক আব্দুল জলিলের সভাপতিত্বে ও সাব্বির আহমদ ফয়েজ এবং গোয়াইনঘাট উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহেল আহমদের যৌথ পরিচালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট বিভাগীয় ট্রাক মালিক গ্রুপের সভাপতি গোলাম হাদী ছয়ফুল। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু সরকার।

এই সংবাদটি 160 বার পঠিত হয়েছে