শাহজাহান আলীঃবগুড়া জেলা প্রতিনিধিঃ
বাংলাদেশ একটি প্রতারক চক্র পুরাতন ব্রিটিশ ধাতব মুদ্রা বা কয়েন দ্বারা বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিরীহ মানুষদের প্রতারিত করে আসছে। এই প্রতারক চক্র নিরীহ মানুষের মাঝে অপপ্রচার করে যে, এই ধাতব মুদ্রা যদি জাহাজে রাখা হয় তাহলে জাহাজ পানিতে ডুবেনা। এই ধাতব মুদ্রা দ্বারা বিমান নামিয়ে আনা যায়,যত বেশি পানিতে এই মুদ্রা ভেসে থাকবে তত বেশি দাম হবে এবং এসব মুদ্রা নাসার স্যাটালাইটের কাজে লাগে। এ নেশায় বগুড়াসহ দেশের মানুষের পকেট কেটেছে এই প্রতারক চক্র। অনেক মানুষ লোভে এই প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে পথের ফকির হয়েছে। পরে তারাও টাকা উশুলের ধান্দায় একই পথে নেমেছে। নেশা একটিই যদি কোন ভাবে ধাতব মুদ্রা পাওয়া যায়।
ঘটনাটি র্যাব-১২ বগুড়া ক্যাম্পের গোয়েন্দা দলের নজরে আসলে নকল ধাতব মুদ্রা তৈরী প্রতারক চক্রকে গ্রেফতারে তৎপরতা চালায় তারা। গত শনিবার রাত ১১টার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বগুড়া সদরের শাপলা মার্কেটে অভিযান চালিয়ে প্রতারক চক্রে সদস্য মোঃ শাহীন ইমরান (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে কিছু ধাতব মুদ্রাসহ গ্রেফতার করা হয়।গ্রেফতারকৃত শাহীন ইমরান বগুড়া জেলা সদরের লতিফপুর বিহারী কলোনী এলাকার মৃত আব্দুস সাত্তারের ছেলে।
র্যাব-১২ বগুড়া ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়, শনিবার দিবাগত রাতে র্যাবের একটি টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শহরের শাপলা মার্কেটে অভিযান চালিয়ে ব্রিটিশ ধাতব মুদ্রা (ঙহব ছঁধবঃ বহ অহহধ ১০, হবঃবফঝঃধঃবংড়ভ অমবৎরপথ ঙহব উড়ষষধৎ-০৪, উধঃরহফরধ ঈড়সঢ়ধহ ড়হব অহহধ -১০, পাঁচ পয়সা -০৫, অস্পষ্ট লেখা মুদ্রা -১৬ এবং কোন ধরনের লেখা নাই এমন ১০টি মুদ্রা), নকল মুদ্রা তৈরীর ছাপ, মোবাইল এবং নগদ ৩০,৩০০/-টাকাসহ প্রতারক চক্রের সদস্য শাহীনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রতারক শাহীন ও তার চক্রের প্রধান টার্গেট ছিল ধনী ও সাধারণ জনগণ। তাঁরা বলতো “ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ এই মুদ্রা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী ব্রিটিশ আমলে বাংলাদেশে বিভিন্ন সীমানা পিলারের মধ্যে পাওয়া গেছে।
আন্তর্জাতিক মার্কেটে এই ম্যাগনোটিক মুদ্রার মূল্য কোটি কোটি টাকা”। আর আমেরিকার নাসা কোম্পানী এই মুদ্রার প্রধান ক্রেতা। প্রতারক চক্ররা কম মূল্যে এই কয়েন সংগ্রহ করেছে। এভাবে এই চক্র বিভিন্ন মানুষকে নিঃস্ব করেছে।
আসমী শাহীন মুদ্রাগুলো বিভিন্ন ভাঙ্গাড়ির দোকান থেকে ক্রয় করে কেমিক্যাল ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের ছাপ দিয়ে রোদে শুকানোর পর আগুনে পুড়িয়ে এসিড দিয়ে নিমজ্জিত রেখে নকল ধাতব মুদ্রা তৈরী করে।
উদ্ধারকৃত ধাতব মুদ্রার মূল্য কোটি কোটি টাকা বলে সে প্রাতরনা করতো। গ্রেফতারকৃত শাহীন দীর্ঘদিন যাবৎ নকল ধাতব মুদ্রা তৈরী করে এবং প্রতারক চক্রের মাধ্যমে এই মুদ্রা
কোট কোটি টাকা বলে মানুষের মাঝে অপপ্রচার করে বিক্রি করে। আসামী শাহীন এলাকায় প্রতারক বলে পরিচিত এবং তার বিরুদ্ধে এলাকার জনসাধারণের অনেক অভিযোগ রয়েছে।
র্যাব-১২ বগুড়া ক্যম্পের কোম্পানী কমান্ডার লেঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন (জি), বিএন এর নিকট বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি জানান, গ্রেফতারকৃত প্রতারক শাহীনের বিরুদ্ধ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বগুড়া সদর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।






