ছাতকে ব্যাক্তিগত মামলায় বিদ্যালয়ের অর্থ ব্যায়ের অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন।

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
আর্থিক অনিয়ম, দায়িত্বে অবহেলা,প্রশ্নপত্র ফাস, নিয়োগ বানিজ্য এমনকি নিজের ব্যক্তিগত মামলায় বিদ্যালয়ে অর্থ ব্যয় সহ নানা অভিযোগ উটেছে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার পাইগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু হেনার বিরুদ্ধে। ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রয়ারী একটি অভিযোগের আলোকে দায়ীত্ব অবহেলা ও অর্থিক অনিয়মের সম্পৃক্ততা পাওয়ায় একই বছরের ২৭ জুলাই তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ওই বরখাস্ত আদেশের বিরুদ্ধে তিনি বাংলাদশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন মামলা দায়ের করলে বরখাস্তের আদেশ স্থগিত করেন আদালত। তবে নতুন করে অভিযোগ উটেছে এ মামলায় আবুহেনা বিদ্যালয়ের ফান্ড থেকে ৪ লাখ  ৫০ হাজার টাকা ব্যায় করেছেন। স্থগীত আদেশের পর তিনি বিদ্যালয় পরিচালনায় দুর্নীতি,স্বেচ্ছাচারিতা ও এসএসি পরিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বোর্ডের নির্ধারিত ফির চেয়ে অতিরিক্ত ফি আদায় করছেন। চলমান বিদ্যুৎ সংকটকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে, তার রুমে এসি স্থাপন  করে ক্লাস না নিয়ে এসি রুমে বসে থাকেন। এছাড়া বিদ্যালয়ের অন্যান্য খ্যাত থেকেও তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ অভিযোগ উটেছে। এসব বিষয় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে  তদন্ত মুলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী  জানিয়ে চলতি বছরের ১ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে হুমায়ুন রশিদ নামের এক ব্যাক্তির দায়েরকৃত লিখিত অভিযোগ থেকে এসব তথ্য পাওয়া যায়। অভিযোগের প্রেক্ষিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সিলেটের প্রবিধানমালা ২০২৪ এর ৬০ নং অনুচ্ছেদের ২ নং উপধারায় কেন তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তা পত্র-প্রাপ্তির ১০ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর জন্য গত ১৬ আগষ্ট তাকে নোটিশ প্রধান করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মহিউদ্দিন।
এরপর গত ৩০ আগস্ট ওই শিক্ষক একটি জবাব দাখিল করেন। নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় গত ২২ সেপ্টেম্বর  উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা শাহ মো: শফিউর রহমান কে প্রাধান করে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, গোবিন্দগঞ্জ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান ও পাইগাও উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য মোহাম্মদ কালাম উল্লাহ। আগামী এক মাসের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখীলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছ।
এর আগে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে একাধিক অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উটে। একাধিক সুত্রে জানা যায় আবু হেনা শিক্ষকতা শুরু করেন উপজেলার কারারুকা ইউনিয়নের হাজী কমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে। সেখানে তিনি দশম শ্রেণির নির্বাচনী পরীক্ষার ইংরেজি ও গণিতের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ক্ষমা চান।পরে তিনি উত্তর খুরমা ইউনিয়নের আজমত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। সেখানেও তিনি বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীর সাথে বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরে তাকে মল্লিকপুর এসিএসডিপি উচ্চ বিদ্যালয়ে বদলী করা হলে ওই প্রতিষ্ঠানে তার বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উটে। পরবর্তীতে তাকে উপজেলার সিংচাপইড় ইউনিয়নের একতা উচ্চ বিদ্যালয়ে বদলী করা হলে সেখানে টাকা পয়সা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠে। সব শেষে তিনি স্থানীয় পাইগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। এখানেও তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ সহ নানা অভিযোগ উটে। সর্বশেষ তার বহিস্কার আদেশ উচ্চ আদালতে স্থগিত হলে তিনি ওই মামলায় বিদ্যালয়ের ফান্ড থেকে ৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ব্যায় করা সহ নানা অভিযোগ উটেছে।
তবে এ বিষয়ে শিক্ষক আবুহেনা জানান নতুন কোন অভিযোগের বিষয় তার জানা নেই। ২৫ সালের বহিস্কার আদেশের বিষয়ে হাইকোর্টে রিট করার পর মামলা বিচারাধীন আছে এবং পুনরায় তাকে বহালের আদেশ  হয়েছে।
উপজেলা উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুয়েব আহমদ বলেন, নতুন করে পাওয়া অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন বিদ্যালয়ের অর্থ ব্যাক্তিগত মামলায় ব্যায় করার কোনো সুযোগ নেই, বিষয়টি প্রমানিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মহিউদ্দিন বলেন,হুমায়ুন রশিদ কর্তৃক  অভিযোগের বিষয়ে ওই শিক্ষক জবাব দিয়েছেন, সেটি সন্তোষজনক না হওয়া
তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তদন্তে সত্যতা পেলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই সংবাদটি 660 বার পঠিত হয়েছে