সিলেট নগরীর বন্দরবাজার ফাঁড়িতে পুলিশী নির্যাতনে আলোচিত রায়হান আহমদ (৩৫) হত্যা মামলার চার্জশিট প্রস্তুত করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। প্রস্তুতকৃত চার্জশিট আগামী বুধবারের মধ্যে আদালতে জমা দেয়া হবে। পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান আহমদ হত্যার প্রায় সাড়ে ৫ মাস পর আলোচিত এ মামলার অভিযোগপত্র প্রস্তুত হয়।
চার্জশিটে বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ (বরখাস্ত) এসআই আকবর হোসেন ভূইয়া, বরখাস্ত হওয়া টুআইসি এসআই হাসান আলীসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে আসামী করা হচ্ছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে রায়হান হত্যার পর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক পরিবর্তন ও প্রধান অভিযুক্ত এসআই আকবর হোসেন ভূইয়াকে পালাতে সহায়তাকারী কথিত সাংবাদিক কোম্পানীগঞ্জের আবদুল্লাহ আল নোমানকে অভিযোগপত্রে আসামি করা হবে কি-না তা এখনও নিশ্চিত করে জানা যায়নি। এছাড়া চার্জশিটে আর কাদেরকে আসামী করা হচ্ছে এ ব্যাপারে এখনই মুখ খুলতে রাজি নয় পিবিআই। চার্জশিট দাখিলের আগে সংবাদ সম্মেলন ডেকে পুরো তদন্ত কার্যক্রম ও আসামীদের ব্যাপারে অবগত করা হবে বলে জানিয়েছেন পিবিআই সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খালেদ উজ জামান।
সূত্র জানায়, রায়হান আহমদ হত্যা মামলার তদন্তের সময় বর্ধিত করতে গত ১০ ফেব্রুয়ারি সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুল মুমিনের আদালতে আবেদন করে পিবিআই। ১৪ ফেব্রুয়ারি আবেদনের শুনানীর পর আদালত ৩০ কার্যদিবস সময় বৃদ্ধি করেন। এরপর তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ পিবিআই কর্মকর্তারা রায়হান হত্যা মামলার আদ্যোপ্রান্ত পর্যালোচনা করে অভিযোগপত্র চূড়ান্ত করার কাজ শুরু করেন।
সূত্র আরও জানায়, ইতোমধ্যে অভিযোগপত্রটি চূড়ান্তক করা হয়ে গেছে। এখন আইনী কোন ফাঁকফোকড় রয়ে গেছে কি-না তা খতিয়ে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত বছরের ১১ অক্টোবর রাতে নগরের আখালিয়া এলাকার বাসিন্দা রায়হান আহমদকে ধরে আনে বন্দরবাজার ফাঁড়ির পুলিশ। পরদিন সকালে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রায়হানের লাশ পাওয়া যায়। এই হত্যাকান্ডের পর রায়হানকে নির্যাতনের সাথে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিচার দাবিতে সিলেটজুড়ে শুরু হয় আন্দোলন। ১২ অক্টোবর রাতে হেফাজতে মৃত্য (নিবারণ) আইনে সিলেটের কতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন রায়হানের স্ত্রী।
পরে বন্দরবাজার ফাঁড়ির ৬ পুলিশকে সাময়িক বরখাস্ত করে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। অভিযুক্ত ৬ জন এখন কারান্তরিণ রয়েছেন। তারা হলেন- বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূইয়া, টুআইসি এসআই হাসান আলী, এএসআই আশেকে এলাহী, কনস্টেবল হারুনুর রশিদ, কনস্টেবল তৌহিদ মিয়া ও কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস। চার্জশিটে এই ৬ জনকে আসামী করা হবে কি-না তা স্পষ্ট করেননি পিবিআইর এসপি খালেদ উজ জামান।
এব্যাপারে পিবিআইর পুলিশ সুপার বলেন, তদন্তের স্বার্থে এখন কিছু বলা যাবে না। তবে তদন্তে যাদেরই সম্পৃক্ততার বিষয়টি উঠে এসেছে তাদেরকে আসামী করা হবে। চার্জশিট দাখিলের আগে সংবাদ সম্মেলন করে সবকিছু জানানো হবে বলেও তিনি জানান।
সি/ ই-21






