স্টাফ রিপোর্টারঃ– জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন সহ পুলিশ প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ সবসময় নম্বরবিহীন (অনটেস্ট) সিএনজি বন্ধের নির্দেশ দিয়ে যাচ্ছেন।কিন্তু বন্ধ হচ্ছে না সিলেটের তামাবিল মহাসড়কের (অনটেস্ট) সিএনজি-অটোরিক্সার টোকেন বানিজ্য।অবৈধ সিএনজি অটোরিক্সায় টোকেন বিক্রি করে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা আদায় করছেন সিএনজি চালক সমিতির তামাবিল সড়কের বিভিন্ন ভুঁইফোঁড় সংগঠনের কিছু অসাধু নেতারা।ফলে প্রতি বছর রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কানাইঘাট উপজেলার প্রশাসনের গাফিলতির কারণে বন্ধ হচ্ছে না অবৈধ যান চলাচল। বন্ধ হচ্ছে না সড়ক দূঘর্টনা ও লাশের মিছিল।শ্রমিক নেতারা টোকেনের টাকার একটি বড় অংশ পুলিশের পকেটে যাওয়ার দাবি করলেও পুলিশ এসব অস্বীকার করছে।
সিএনজি-অটোরিক্সা মালিকরা জানান, সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে জাফলং, তামাবিল, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর সহ বিভিন্ন উপজেলার লোকজন সিলেটে যাতায়াত করেন।অবৈধ যানবাহন রোধে দায়িত্বরত প্রশাসনিক কর্তা-ব্যক্তি, চাঁদাবাজ ও টোকেন চালু করছে সিএনজি চালক শ্রমিক নামদারি জৈন্তাপুর উপজেলার হেমু হাদপাড়া গ্রামের আব্দুল মজিদ মিয়ার ছেলে চাঁদাবাজ আব্দুল কুদ্দুস উরফে টোকেন কুদ্দুস এবং তার হাতে গড়া সিলেট সদর উপজেলার শাহপরান থানাধীন পীরেরবাজার এলাকার টোকেন সিন্ডিকেট চক্র।বিনিময়ে প্রতি মাসে টোকেন কুদ্দুস অবৈধ যানবাহন থেকে এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কামাই করছেন লাখ-লাখ টাকা।
তার সাথে সাথে এক শ্রেণীর পুলিশের পকেটও ভারি হচ্ছে। আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সরকার, চালক ও মালিকরা।
মাঝে মধ্যে প্রশাসনের অভিযানে দু’চারটি নম্বরবিহীন অটোরিক্সা আটক হলেও অদৃশ্য কারণে অভিযান গুলো থেমে যায়!ফলে এই তিন সড়কে নম্বরবিহীন অটোরিক্সা চলাচলে বাধা থাকছে না কোথাও।
সরজমিনে অনুসন্ধানে নামে টিম।উঠে আসে সিলেটের জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কানাইঘাট উপজেলার তিন সড়কের টোকেন বানিজ্যর প্রধান কুদ্দুস, নাজিম ও ইয়াহিয়া সহ সিন্ডিকেটের কয়েকজনের নাম।
জানা গেছে, এই তিন সড়কে রেজিষ্ট্রেশন বিহীন সিএনজি অটোরিক্সার সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজারেরও বেশী।আর অবৈধ গাড়িগুলো চলছে কুদ্দুসের বিশেষ টোকেনে’র মাধ্যমে। টোকেন বানিজ্য করে মাসে লাখ ও বছরে কোটি টাকারও বেশি হাতিয়ে নিচ্ছে কুদ্দুস সিন্ডিকেট। অবৈধ এই কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে একশন নিতে সাহস যেন কারোই নেই।
আরো জানা গেছে, এই সড়কগুলাতে রেজিষ্ট্রেশন বিহীন সিএনজি অটোরিক্সা চলতে প্রতিটি সিএনজি অটোরিক্সাকে মাসে ৫শ’ থেকে ১৫শ’ টাকার টোকন কিনতে হয়।আদায়কৃত এই চাঁদা থেকে নম্বর ও রেজিষ্ট্রেশন বিহীন সিএনজি অটোরিক্সা চলাচলের বিআরটিএ এবং প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করা হয়ে থাকে বলে বিশ্বস্হ একটি সুত্র তা নিশিত করেছে।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, টোকেন বানিজ্যর মূলহোতা টোকন কুদ্দুস ও তার গড়ে তোলা সিন্ডিকেটের কয়েকজন মিলে তাদের বড় একটি সিন্ডিকেট। এই তিন উপজেলার সব ক’টি সড়কের নিয়ন্ত্রকরা রেজিষ্ট্রেশন বিহীন সিএনজি অটোরিক্সা (অনটেস্ট) গাড়িতে টোকেন লাগিয়ে দিলে সেটি চলাচলের জন্য বৈধ হয়ে যায়!সিএনজি অটোরিক্সা তাদের মাধ্যমে চলাচলে ১ম এককালীন ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকার চাঁদা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্টরা প্রতিটি সিএনজি অটোরিক্সার জন্য একটি টোকেন বরাদ্দ করেন। আর এই টোকন অটোরিক্সার সামনের গ্লাসে লাগিয়ে দিলে গাড়িগুলা সড়কে চলতে আর কোন অসুবিধা থাকে না।
এই উপজেলা গুলাতো এমন (অনটেস্ট) অটোরিক্সার সংখ্যা প্রায় (৩ হাজার) যা অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট একটি সুত্র জানায়, বিআরটিএ’র পক্ষ থেকে নতুন সিএনজি চালিত অটোরিক্সা নিবন্ধন বন্ধ থাকায় ৩ উপজেলার সব সড়কের নম্বরবিহীন অটোরিক্সা চলাচলের জন্য কুদ্দুস এর নেতৃত্বে সিএনজি চালকের ভূয়া নেতা নাজিম উদ্দীন ও হরিপুর বাজার এর বিশিষ্ট চোরাচালান কারবারি একাধিক চোরাচালান মামলার আসামি ইয়াহিয়াদের নিয়ে গড়ে তোলেন তার একটি টোকন সিন্ডিকেট।
শুধু তাই নয়, কুদ্দুস সিন্ডিকেটের এক সদস্য বলেন সিলেটের উর্ধ্বতন প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ থানা পুলিশের সব সেক্টরে টোকেন বানিজ্য করে আদায়কৃত টাকার ভাগ দিয়েই টুকেন ব্যবসার অনুমতি নিয়েছে তারা, যার প্রমাণ আমাদের হাতে আছে।তাই কুদ্দুসের দেয়া টোকেন কিনতে পারলেই জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট ও শাহপরান রোডে অবৈধ নম্বরবিহীন অটোরিক্সা চলতে বাধা থাকেনা।অন্যথায় কেউই রেজিষ্ট্রেশন বিহীন সিএনজি অটোরিক্সা চালাতে পারবে না।
তবে, থানা পুলিশের সাথে এব্যাপারে কথা হলে তারা টোকেন বানিজ্যর বিষয়টি জানেন না বলে সাফ জানিয়েছেন তারা।
এ দিকে,বৈধ সিএনজি চালক সমিতির নেতৃবৃন্দরা জানান, বিআরটিএ ও প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের সাথে সক্ষতা থাকায় এই টোকেন বানিজ্যর হোতাদের অবৈধ এ বানিজ্য বন্ধ হচ্ছে না। এদিকে এই সব রেজিষ্ট্রেশন বিহীন (অনটেস্ট) সিএনজি অটোরিক্সার টোকেন ব্যবসায়ীরা বানিজ্য করে নিজেরা কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন।অন্যদিক এই টাকা টোকেন ব্যবসায়ীরা আত্মসাৎ করেন।






