সুনামগঞ্জে হাওর বাঁচাও আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সংবাদ সম্মেলন

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি 

সুনামগঞ্জে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজে মারাত্মক বিলম্বে উদ্বিগ্ন কৃষকদের পক্ষে হাওর বাঁচাও আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট স্বপন কুমার দাস রায়। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায়।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০১৭ সালে হাওরে অনিয়ম ও অবহেলার কারণে কৃষকের ফসলহানির প্রতিবাদ থেকেই ‘হাওর বাঁচাও আন্দোলন’-এর জন্ম। জন্মলগ্ন থেকেই কৃষকের অধিকার, হাওরের ফসল ও দেশের খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষায় সংগঠনটি রাজপথে সক্রিয় রয়েছে। কৃষকদের দাবি আদায়ে নিয়মিত আদালতসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে আমরা কথা বলে আসছি।
তিনি বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে পিআইসি গঠন, ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে বাঁধের কাজ শুরু এবং ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও বাস্তবে তার ব্যত্যয় ঘটেছে। লোক দেখানো উদ্বোধনের প্রায় ২০ দিন পার হলেও অধিকাংশ উপজেলায় কাজ শুরু হয়নি। নিয়মরক্ষার পিআইসি অনুমোদন দেওয়া হলেও কার্যক্রম নেই।
তিনি জানান, শাল্লা, ধর্মপাশা, মধ্যনগর, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, দিরাই ও শান্তিগঞ্জসহ একাধিক উপজেলায় বহু পিআইসি এখনো কাজ শুরু করেনি। অনেক উপজেলায় পূর্ণাঙ্গ পিআইসি গঠনও সম্পন্ন হয়নি। হালির, শনির, দেখার, কানলার, ছায়ার, উৎগল, মহালয়া, সোনামড়ল ও বরাম হাওরসহ অধিকাংশ হাওরে বাঁধ মেরামত ও ভাঙা বন্ধের কাজ শুরু হয়নি।
বিজন সেন রায় বলেন, কাজের বিলম্বের কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাঁধ নির্মাণ অসম্ভব হয়ে পড়ছে। দেরিতে করা বাঁধ কখনোই টেকসই হয় না। দুর্বল বাঁধ মানেই হাওর ডুবি ও ফসলহানি। এতে প্রায় দুই লাখ বোরো চাষী পরিবার চরম অনিশ্চয়তায় পড়বে।
তিনি অভিযোগ করেন, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডাকঢোল পিটিয়ে ফিতা কাটা হলেও মাঠে বাস্তব কাজ নেই। কাবিটা মনিটরিং কমিটি ও পানি উন্নয়ন বোর্ড বরাদ্দ ও প্রকল্প থাকার কথা বললেও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। পিআইসি নিয়ে কৃষকদের সঙ্গে এক ধরনের ‘সাপ-লুডু খেলা’ চলছে।
তিনি আরও বলেন, অনেক স্থানে আগের বছরের তুলনায় বরাদ্দ অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হয়েছে। একটি প্রকল্প ভেঙে একাধিক প্রকল্প দেখিয়ে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে, যা দুর্নীতি ও অনিয়মের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। মনগড়া সার্ভে ও চূড়ান্ত বিল প্রদানের মাধ্যমে সরকারি অর্থ তছরুপ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে চার দফা দাবি তুলে ধরা হয়—
১. অবিলম্বে সব পিআইসি গঠন সম্পন্ন করে কাজ শুরু করতে হবে।
২. সব হাওরে দ্রুত বাঁধের কাজ দৃশ্যমান করতে হবে।
৩. কাবিটা স্কিমের নীতিমালা শতভাগ অনুসরণ নিশ্চিত করতে হবে।
৪. অনিয়ম, গাফিলতি ও দায়িত্বহীনতার দায় সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোকে দায়িত্ব নিতে হবে।
কাজ দ্রুত শুরু না হলে এবং সময়মতো বাঁধ সম্পন্ন না হলে ফসলহানির দায় সংশ্লিষ্টদের নিতে হবে—এমন হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে জনগণের আদালত ও সরকারি আদালতে মামলা, পাশাপাশি রাজপথে আন্দোলন, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি দেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক একে কুদরতপাশা।
এতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি চিত্তরঞ্জন তালুকদার, জেলা কমিটির সহ সভাপতি আলীনুর, কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আনোয়ারুল হক, সদস্য ইসমাইল হোসেনসহ হাওর বাচাও আন্দোলন সংগঠনে সদস‍্যবৃন্দ। এই আড়ম্বরপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে
বিভিন্ন মিডিয়ার গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এই সংবাদটি 84 বার পঠিত হয়েছে