ছাতকে স্বাস্থ্য সেবায় লোকবল সংকট।

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার স্বাস্থ্যসেবায় দীর্ঘদিন ধরে চলছে চরম লোকবল সংকট। রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন হাতেগোনা কয়েকজন ডাক্তার। ফলে চিকিৎসা ব্যবস্থায় দেখা দিয়েছে মারাত্মক অচলাবস্থা। স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে উপজেলাজুরে ব্যাপক অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে৷ ইতিপুর্বে এসব বিষয়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় একাধিক সংবাদ প্রকাশ হতে দেখা গেছে। তবে কর্তৃপক্ষ দাবী লোকবল সংকটের কারণেই এমনটা হচ্ছে।

এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে খোজ নিয়ে জানা গেছে উপজেলার মোট ৩ লাখ ৯৭ হাজার ৬৪২ জন জনসংখ্যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ হতদরিদ্র। তাদের প্রধান চিকিৎসা নির্ভরতা ছাতক উপজেলার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কৈতক ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল। কৈতক হাসপাতাল নড়বড়ে ভাবে টিকে থাকলেও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বহুদিন ধরেই রয়েছে ভয়াবহ লোকবল সংকট।

প্রশাসনিক অনুমোদন হিসেবে ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যার হলেও এখনো চলছে পুরোনো ৩১ শয্যার কাঠামোতে। ৩১ শয্যার নিয়ম অনুযায়ী এখানে একজন আরএমওসহ দুইজন মেডিকেল অফিসার থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে এই পদের কেউই নেই। বাধ্য হয়েই সাবসেন্টারে পোস্টিং প্রাপ্ত দুই ডাক্তার দিয়ে সম্পূর্ণ হাসপাতালের কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে।

এছাড়া ২৫ জন নার্সের স্থলে আছেন মাত্র ১৪ জন। ক্লিনার ও ওয়ার্ডবয়ের সংখ্যা ২০ জন হলেও ৫০ শয্যার হাসপাতালে এসব পদের সংখ্যা হওয়ার কথা প্রায় দ্বিগুণ।

অন্যদিকে উপজেলার সৈদেরগাঁও, কালারুকা, ধারনবাজার ও শিংছাপইড় ইউনিয়নে রয়েছে চারটি সাবসেন্টার। প্রতিটিতে ১ জন ডাক্তার, ১ জন সেকমো ও ১ জন ওয়ার্ডবয় থাকার কথা। অর্থাৎ ১২ জনের প্রয়োজন হলেও রয়েছেন মাত্র ২ জন।
ফলে সাবসেন্টারগুলোতে সেবা কার্যত বন্ধ। বহুদিন ধরে সেগুলো তালাবদ্ধ পড়ে আছে এবং স্থানীয়দের অভিযোগ লোকবল না থাকায় এগুলো এখন মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে।

এছাড়া উপজেলার ৩৫টি কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত আছেন ৩৩ জন। তবে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ- সেগুলাতে পাওয়া যাচ্ছে না কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা।

ছাতক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতি মাসে ১০০-১৫০ জন ডেলিভারি রোগী ভর্তি হন। নিয়মিত প্রতিদিন ভিন্ন সেবা নিতে ভর্তী হোন আরও ৪০–৫০ জন।
ওপিডিতেও রোগীর দীর্ঘ লাইন লেগেই থাকে। ওপিডি থেকে মাসে সরকারি কোষাগারে রাজস্ব জমা পড়ে ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, কৈতক হাসপাতালে এ আয় প্রায় দ্বিগুণ।

সব মিলিয়ে ছাতকের স্বাস্থ্য খাতে যে পরিমাণ জনবল থাকার কথা-বর্তমানে তার অর্ধেকও নেই। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নানা রোগবালাই বেড়ে যাওয়ায় রোগীর চাপ আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুসরাত আরফিন বলেন,
জনবল সংকটের বিষয়টি আমরা লিখিতভাবে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আশা করছি দ্রুতই লোকবল সংকট কটের সমাদন হবে।

লোকবল সংকটের বিষয় স্বীকার করে জেলা সিভিল সার্জন জসিম উদ্দিন বলেন, আশা করছি আগামী এক দেড় মাসের মধ্যে ডাক্তার সংকটের সমাদান হবে।

এই সংবাদটি 112 বার পঠিত হয়েছে