ছাতকে দুই গ্রামবাসীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১৫ জন বাজারে ভাঙচুর–লুটপাট, গ্রেফতার ৬

ছাতক প্রতিনিধিঃ
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় দুই গ্রামের মধ্যে ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে ইসলামপুর ইউনিয়নের ইছামতী বাজার এলাকায় বনগাঁও ও লুভিয়া গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, লুভিয়া গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে কামরুল ইসলাম (স্থানীয়ভাবে চোরাকারবারি হিসেবে পরিচিত ও ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক) ও বনগাঁও গ্রামের জগম্বর আলীর ছেলে ফজলুল করিমের মধ্যে ব্যবসায়িক পাওনা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফজলুল করিম তার পাওনা ৫ লাখ টাকা দাবি করলে দুই পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় গ্রামের লোকজন লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

দফায় দফায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হন। গুরুতর আহত বনগাঁও গ্রামের মানিক মিয়া ও লুভিয়া গ্রামের দিলোয়ার হোসেন ও মুক্তার হোসেনকে প্রথমে সিলেট এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে মানিক মিয়ার অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অন্যান্য আহতরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

সংঘর্ষ চলাকালে ইছামতী বাজারের কয়েকটি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে সংঘর্ষে জড়িত একটি পক্ষ সড়কে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটায় এবং ডিজেল ঢেলে সেতুতে আগুন লাগিয়ে দেয়। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে ছাতক থানা পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৬ জনকে আটক করে।

শুক্রবার সকালে আহত মানিক মিয়ার স্ত্রী শাহিনুর বেগম বাদী হয়ে ২২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১৫–২০ জনের বিরুদ্ধে ছাতক থানায় মামলা দায়ের করেন। আটক ৬ জনকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ঘটনার পর মামলা হয়েছে। ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই সংবাদটি 93 বার পঠিত হয়েছে