ছাতক পৌর শহরের তাতিকোনা হাবিবউল্লাহ মাদ্রাসার শিক্ষকের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগের প্রতিবাদে ম্যানেজিং কমিটি ও পাঁচ গ্রামের মুরব্বিদের উপস্থিতিতে প্রতিবাদ সভা অনুষ্টিত

ছাতক প্রতিনিধিঃ
সুনামগঞ্জের ছাতক পৌর শহরের তাতিকোনা হাবিবউল্লাহ মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি ও পাঁচ গ্রামের মুরব্বিদের উপস্থিতিতে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্টিত হয়েছে। গত ২০ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০ টায় মাদ্রাসার হলরুমে এ প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি আলহ্বাজ্ব গিয়াস উদ্দিন তালুকদার। সভার শুরুতে তিনি উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে গত ১৬ জুন‘২৫ ইং তারিখে সংঘটিত মাদরাসার প্রধান শিক্ষক হাফিজ মোঃ আলী হোসেনের উপর একদল দুষ্কৃতিকারীর হামলা ও ১৯/২৫ ইং ছাতক থানায় মিথ্যা মামলা দায়ের করে গ্রেফতারের ঘটনাসহ বিস্তারিত উপস্থাপন করেন।

গত ৩১ শে জুলাই দায়রা জজ আদালত সুনামগঞ্জ থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে আসা প্রধান শিক্ষক হাফিজ মোঃ আলী হোসেন নিজেই সভায় ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, “একদল দুষ্কৃতকারী আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক অভিযোগে পুলিশ আমাকে গ্রেফতার করে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছিল। আলহামদুলিল্লাহ, প্রশাসনের উদ্যোগে আইনানুগভাবে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে আমি নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছি।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ছাতক জালালিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ আব্দুল আহাদ। বিশেষ অতিথি হিসারে বক্তব্য রাখেন মতিনিয়া-শহীদিয়া হুফফাজুল কুরআন পরিষদের সভাপতি হাফিজ মোঃ আব্দুল গফফার আল হাসান। সিরাজুম মুনিরা তাহফিজুল কোরআন মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ আবুল হোসাইন। গাবুরগাঁও দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক কবির আহমদ লতিফি। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মিজানুর রহমান জাবেদ, গোলাম কিবরিয়া আজাদ, হাজী সফিক মিয়া, আয়না মিয়া, সামছুদ্দীন, খলিলুর রহমান মানিক, আকিল আলী,আঙ্গুর মিয়া ফারুক মিয়া, ইর্শাদ আলী, আনফর আলী, দেলোয়ার হোসেন, সাকির আমিন, লালা মিয়া, আব্দুল কাদির, সরিফ উদ্দিন, সাইফুল আলম, নজরুল আলম তালুকদার, কামরুল ইসলাম তালুকদার, সাকিব মাহমুদ প্রমুখ।
সভায় বক্তারা প্রশাসন কর্তৃক আইনানুগভাবে ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক হাফিজ মোঃ আলী হোসেন সন্দেহাতীতভাবে অভিযোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার বিষয়টি অবহিত হয়ে বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, তিনি পবিত্র কুরআনের একজন একনিষ্ঠ খাদিম এবং আপাদমস্তক একজন ভালো মানুষ। অত্র মাদরাসায় প্রধান শিক্ষকের পদে যোগদানের পর থেকে গত ১৩ বছর ধরে তাঁর দিবারাত্র কঠোর শ্রম ও সাধনার মাধ্যমে মাদরাসার ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়েছে। বর্তমানে এটি বৃহত্তর সিলেটে অন্যতম খ্যাতনামা হিফজুল কুরআনের প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুখ্যাতি লাভ করেছে। এ ঘটনার সুষ্টু তদন্তের স্বার্থে ৫ গ্রামের বিশিষ্ট মুরব্বিদের সম্বনয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়।

সভায় এলাকার মুরব্বি, অভিভাবক ও সমাজের বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে মাওলানা মোঃ আব্দুল আহাদ দোয়া পরিচালনা করেন এবং এর মাধ্যমে সভা সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।

এই সংবাদটি 134 বার পঠিত হয়েছে