ছাতক প্রতিনিধিঃ
সুনামগঞ্জের ছাতক পৌরসভার ০৭নং ওয়ার্ডের মন্ডলীভোগ (মেডিকেল রোড) এলাকার বাসিন্দা করুণাময় দাস তাঁর পৈতৃক সম্পত্তি জবরদখলের অভিযোগ করেছেন। এ বিষয়ে তিনি স্থানীয় জনগণের উদ্দেশ্যে এক বিবৃতি দিয়ে বিষয়টি প্রকাশ করেন এবং দখলমুক্তির জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
করুণাময় দাস জানান, ১৯৫২ ইং সালের এস.এ রেকর্ড অনুযায়ী মন্ডলীভোগ মৌজার এস.এ ১৪৩ নং খতিয়ানের ২০/৫৭৬ নং দাগে .০৭ শতক ভিটরকম ভূমি তাঁর পিতা কানুলাল দাস ও চাচা কামাখ্যা চরন দাস পিতা কুমোদ চন্দ্র দাস মালিক ও দখলকার হিসেবে ভোগদখল করে আসছিলেন। পরবর্তীতে তারা ভূমিটি হাজী আবু সাঈদ মিয়ার নিকট ভাড়া দেন।
তিনি বলেন, আমার পিতা ও চাচার মৃত্যুর পর আমি করুণাময় দাস ও আমার চাচাতো ভাই কৌশিক চন্দ্র দাস উত্তরাধিকার সূত্রে উক্ত ভূমির মালিকানা লাভ করি। আমি নিজে বহুবার হাজী আবু সাঈদ মিয়ার নিকট হতে মাসিক ভাড়া উত্তোলন করি। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি উক্ত জমিকে নিজস্ব সম্পত্তি বলে দাবি করে ভাড়া প্রদানে অস্বীকৃতি জানান এবং ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে জমিটি জবরদখল করে নেন।
করুণাময় দাস আরও জানান, এ ঘটনায় চরেরবন্দ গ্রামের ময়না মিয়া, হাজী আরজদ আলী এবং তৎকালীন কাউন্সিলর নৌশাদ মিয়াসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একাধিকবার শালিসের মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তির চেষ্টা হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
পরে জমি উদ্ধারের লক্ষ্যে ২০২৫ সালের ১৭ এপ্রিল ৭২৬ নং পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিল সম্পাদন করেন তাঁরা। ওই দলিলে তিনি ও কৌশিক চন্দ্র দাস তাঁদের প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত করেন মো. খালেদ মিয়া পিতা: মৃত চান মিয়া, দিলোয়ার হোসেন পিতা: মৃত রায়হান উদ্দিন, ইব্রাহিম মিয়া পিতা: তারেক মিয়া, সকলেই চরেরবন্দ, ০৮ নং ওয়ার্ড, ছাতক পৌরসভার বাসিন্দা। কিন্তু তিনি জানান বর্তমানে উক্ত সম্পত্তি দখল করে আছেন মৃত হাজী আবু সাঈদ মিয়ার ছেলে মো. আব্দুর রহমান (আফরোজ মিয়া), আলী আশরাফ, আলী আকবর।
করুণাময় দাস অভিযোগ করেন, এই তিনজন এখন অপপ্রচার চালাচ্ছেন যে, তিনি নাকি ভয়-ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে দলিলটি সম্পাদন করেছেন। তিনি এসব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, আমরা সম্পূর্ণ সজ্ঞানে, সুস্থ মস্তিষ্কে ও স্বাধীন ইচ্ছায় দলিলটি সম্পাদন করেছি। কেউ আমাদের ওপর কোনো চাপ প্রয়োগ করেননি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিবাদীপক্ষ তাঁর সিলেটস্থ বাসায় গিয়ে হুমকি-ধামকি এবং মীমাংসার নামে চাপ প্রয়োগ করেছে। তিনি এই বেআইনি চাপ ও হয়রানির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
শেষে করুণাময় দাস বলেন, বিবাদীপক্ষের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার আমাদের সামাজিকভাবে হেয় করতে এবং দখলকে বৈধতা দেওয়ার অপচেষ্টা ছাড়া কিছুই নয়। আমরা আইন ও প্রশাসনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি এবং আমাদের পৈতৃক ভূমি দখলমুক্ত করার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।
বিবাদীপক্ষের আলী আশরাফ, আলী আকবর লন্ডনে বসবাস করায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি, মো. আব্দুর রহমান আফরোজ মিয়ার বাসার ব্যক্তিগত সহকারী জাবেদ মিয়ার মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান মো. আব্দুর রহমান (আফরোজ মিয়া) দেশে আছেন কিন্তু তিনি অসুস্থ মোবাইলে কথা বলতে পারবেন না।






