সিলেট তথ্যানুসন্ধান ডেস্কঃ-সিলেটের সীমান্ত এলাকা দিয়েই অবাধে আসছে ভারতীয় চোরাই পণ্য। আর চোরাই মোবাইল নিয়ে আসার নিরাপদ রুট হচ্ছে তামাবিল। এ পর্যন্ত যতগুলো চোরাই মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে সবগুলোর চালান তামাবিল রোড হয়ে সিলেটে প্রবেশ করেছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ তিনি নিজেই এই চোরাচালান বন্ধের বিষয়ে কঠোর নির্দেশ দিয়ে দিয়েছে। তবুও থামছে না ভারতীয় চোরাচালান। প্রতিদিন রাতে সরকারের কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে জৈন্তাপুরের বিজিবির লাইনম্যান আলোচিত বেন্ডিস করিমের মাধ্যমে ভারত থেকে দেশে প্রবেশ করছে সকল ধরণের চোরাই পণ্য। এই চোরাই পণ্য পাচার করছে বড় একটি চক্র।
এই চক্রের মধ্যে যাদের নাম রয়েছে তারা হলেন সিলেটের উপশহরের বাসিন্দা বুকাইর আহমেদ ও শাপলাবাগ এলাকার বাসিন্দা পলাশ আহমেদ। এই দুই চোরাকারবারী হরিপুরের আকবরসহ একাধিক বুঙ্গাড়ীদের সাথে নিয়ে দীর্ঘ দিন থেকে এই ব্যবসা করে আসছেন। পুলিশ-বিজিবি নিরব থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে র্যাব-৯ এর অভিযান অব্যাহত আছে।
জানা গেছে, বুকাইর নিজেকে আওয়ামালীগের নেতা ও বিভিন্ন থানার ওসি সহ একাধিক পুলিশের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে এবং তাদের নাম ভাঙ্গিয়ে চোরাচালানের ব্যবসা করে আসছেন। সম্প্রতি সিলেট র্যাব-৯ এর অভিযানে শাহপরান থানাধীন মুরাদপুর বাইপাস থেকে গত ২৬ জুলাই ৭১টি ভারতীয় চোরাই মোবাইল ফোন নগরের উপশহর এলাকার বাসিন্দা বুখাইর আহমদ ও পলাশ আহমদকে গ্রেফতার করে। উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোনে বাজার মূল্য সাড়ে ১৮ লাখ টাকা বলে জানায় র্যাব।
আটকের পর তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়। এরপর কিছু দিন কারাভোগ করে জামিনে বেরিয়ে হরিপুরের আকবরকে সাথে নিয়ে ফের শুরু করে চোরাচালান। তাদের পিছনে রয়েছেন শীর্ষ চোরাচালানী চক্রের সদস্যরা।
এর আগে সিলেট জেলা গোয়েন্দা শাখার (উত্তর) অফিসার ইনচার্জ সাইফুল আলম রোকনের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে বুকাইরের ভারতীয় চোরাই টিসু কাপড়ের বড় চালানসহ দুই সদস্যকে আটক করা হয়। পরে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেলা হাজতে প্রেরন করা হয়। এ ঘটনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ বাদি হয়ে একটি মামলা করেন। এই মামলায় বুকাইরকে আসামি করা হয়েছে। মামলার চার্জসিটও আদালতে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু বুকাইর এখনো পলাতক রয়েছে। পলাতক থেকে থামছে না বুকাইর এর চোরাচালান।
এই শীর্ষ চোরাকারবারী বুকাইরের একটি প্রাইভেট কার রয়েছে যার নং- সিলেট ল- ১১-০১৭৫। এই কারটি র্যাব-৯ ও পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে। এই কার দিয়েই তিনি প্রতিদিন সীমান্ত এলাকা দিয়ে যাতায়াত করেন। এমনকি ছোট-খাঁটো চোরাচালান এই কার দিয়ে সিলেটের বিভিন্ন স্থানে পাঁচার করেন।
উক্ত অভিযোগের বিষয়ে বুকাইর ও পলাশের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।






