শাহজাহান আলী, বগুড়া জেলা প্রতিনিধিঃ
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় আগামী ১১ নভেম্বর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন কে কেন্দ্র করে আটমূল ও মাঝিহট্র ইউনিয়নে সংঘর্ষ ও নির্বাচনী অফিসে অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটেছে। স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ আহত ১০জন।
জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে। ততই প্রতিহিংসা বাঘের মত রূপ নিচ্ছে শিবগঞ্জ উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও তার সমর্থকরা। নিজেদের আখড় গোছাতে মরিয়া হয়ে উঠছে তারা। যে কোন মূল্যেই তাদের আধিপত্ত বিস্তার করতেই হবে এটা যেন হয়ে ওঠেছে তাদের নেশা। এজন্য চেয়ারম্যান প্রার্থী সহ তাদের সমর্থকরা বার বার সংঘাতের পথ বেছে নিচ্ছে। সোমবার উপজেলার আটমূল ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ মোজাফ্ফর হোসেন এর বড়বেলড়িয়া গ্রামের আনারস প্রতীক এর নির্বাচনী অফিসে রাতে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী কর্তৃক অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটায়। একই সময় বড় বেলঘড়িয়া গ্রামের আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী মিজানুর রহমান এর নৌকা প্রতীক এর নির্বাচনী অফিসে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, আমার বিজয় নিশ্চিত জেনে আওয়ামীলীগ প্রার্থী কৌশলে আওয়ামীলীগের বিদ্রৌহী প্রার্থীর সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে আমার নির্বাচনী অফিসে অগ্নি সংযোগ করে। এ বিষয়ে আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী মিজানুর রহমান বলেন, বহিরাগত লোকজন নিয়ে এসে স্বতন্ত্র প্রার্থী আমার নৌকা প্রতীকের নির্বাচনী অফিসে অগ্নি সংযোগ করে।
অপরদিকে সোমবার দূপুরে মাঝিহট্ট ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী এসকেন্দার আলী সাহানা তার অটোরিক্সা প্রতীকের গণসংযোগ করার জন্য বাকিরতলা গেলে তার প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামীলীগ সমর্থিত নৌকা প্রতীক প্রার্থী আব্দুল গফুর এর সমর্থকদের সঙ্গে বাক বিতন্ডতার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে উভয়ের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এসময় স্বতন্ত্র চেয়ারম্যা প্রার্থী এসকেন্দার আলী সাহানা, তার সমর্থক আলী আজম (৪৫), রতন (৪২), রব্বানী (২৫), আলীম (৩০), হাকিম (৩২), আমিনুল ইসলাম (৪২), আনোয়ার, বিপ্লব, হাবীব সহ ১১ জন আহত হয়। আহতরা শিবগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ব্যাপারে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান এসকেন্দার আলী সাহানা বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার জন্য বারিক তলা এলাকায় পৌছিলে আওয়ামীলীগ সমর্থিত নৌকা প্রতীক এর প্রার্থী আব্দুল গফুর এর নেতৃত্বে তার সমর্থকরা আমাদের অতর্কিত ভাবে হামলা চালিয়ে মারপিট করে আহত করে। তবে আমিনুল ইসলাম এর পায়ের রগ কেটে ফেলা হয়েছে। এব্যাপারে আওয়ামীলীগ সমর্থিক প্রার্থী আব্দুল গফুর বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী এসকেন্দার আলীর সমর্থকরা আমার সমর্থকদের খড়ের পালায় অগ্নি সংযোগ ও বসত বাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিপক্ষ প্রার্থীদের মারপিট করার প্রশ্নই ওঠে না।
এব্যাপারে শিবগঞ্জ থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি)মোঃ সিরাজুল ইসলাম এর নিকট বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, উভয় পক্ষের অভিযোগ পেয়েছি, পুলিশ সার্বক্ষনিক তৎপর রয়েছে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





