জৈন্তাপুরে প্রভাবশালী চত্রুের বিরুদ্ধে সরকারী গোপাট থেকে গাছ কাটার অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টারঃ- জৈন্তাপুরে সরকারী গোপাট থেকে গাছ কেটে উজাড় করছে একটি প্রভাবশালী চত্রু। প্রশাসনের উদাসীনতায় ইতোপূর্বে কয়েক লক্ষ টাকার গাছ বিত্রিু করা হয়েছে। ধারাবাহিক গাছ কাটায় ১৯ জানুয়ারী প্রশাসনের হস্তক্ষেপে জব্ধ করা হয়েছে অর্ধশতাধিক কাটা গাছ।

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ৩নং চারিকাটা ইউনিয়নের বাউরভাগ উত্তর গ্রামে গৃহ পালিত পশু এবং মানুষের চলাচলের জন্য একটি গোপাট রয়েছে। এই গোপাটে দীর্ঘ দিনের পুরনো আম, জাম, কাঠাল, জারুল, রেন্টি, মেহগুনি, কদম সহ বিভিন্ন জাতের গাছ ছিল।

বাউরভাগ উত্তর মৌজার জে, এল নং ৫৭ স্থিত গোপাট শ্রেণী রকম ৭৫ নং দাগের পাশ্ববর্তী ৭৪ নং দাগে বসবাস মৃত পেড়াই মিয়ার ছেলে ইসলাম উদ্দিন, সমছুল ইসলাম, ফয়জুল ইসলাম, মাসুক আহমদ, মঈন উদ্দিন ও ইসলাম উদ্দিনের ছেলে রাসেল আহমদ’র। গ্রামবাসীর অভিযোগ গোপাটের আংশিক জমি রাস্তার মধ্যে থাকলেও প্রায় ২/৩ বিঘা জমি দীর্ঘদিন থেকে উল্লেখিত ব্যাক্তিরা প্রভাব বিস্তার করে অপদখল করে আছে। গোপাটে থাকা বহু প্রজাতির গাছ-পালার মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে আশ্রয় নিত হাওড়ের কৃষক সহ গৃহপালিত পশু-পাখি। কিন্তু গ্রামবাসীকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এই পরিবারের লোকজন গাছগুলো কাটতে শুরু করে।

এ ব্যাপারে ২০১৮ সালে বাউরভাগ উত্তর গ্রামের পক্ষ থেকে জৈন্তাপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি)’র নিকট লিখিত অভিযোগ করা হয়। তৎসময়ে বিষয়টি তদন্তত্রুমে প্রমানিত হয় যে তারা ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকার গাছ বিত্রিু করেছে। সম্প্রতি আবারো গাছ কাটা শুরু হলে গ্রামবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি)’র নির্দেশে সরেজমিন তদন্তে ঘটনাস্থলে যান উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা হোসনে আরা বেগম। এসময় বিভিন্ন জাতের প্রায় ৪০টি গাছ কাটা অবস্থায় পাওয়া যায় এবং কর্তনকৃত গাছগুলো জব্ধ করে গ্রামের মুরব্বিগণের জিম্মায় রাখা হয়।

এদিকে বাউরভাগ উত্তর গ্রামের মৃত পেড়াই মিয়ার ছেলে ইসলাম উদ্দিন, মাসুক আহমদ সহ তাদের পরিবারের অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধে বন বিভাগের গাছ চুরি এবং ডাকাতি ছাড়াও বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। গোপাট উদ্ধারের মাধ্যমে জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা উন্মোক্ত করে আবারো সবুজ বনায়ন করার সুযোগ করে দিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।

এই সংবাদটি 344 বার পঠিত হয়েছে