শাহজাহান আলী,রাজশাহী বিভাগীয় প্রতিনিধিঃ টি, আর কর্মসূচির আওতায় গৃহিত ২৪টি উন্নয়ন ও সংস্কার প্রকল্পের টাকা আটকিয়ে রাখার প্রতিবাদে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) এর বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।২৯ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) বেলা ১১টার দিকে উপজেলা সদর মাঝিড়া বটতলায় ঢাকা- বগুড়া মহাসড়কের পাশে এ মানববন্ধন কর্মসূিচ পালিত হয়।
মানববন্ধনে অংশ গ্রহণকারীরা জানিয়েছেন,২০১৯-২০২০ অর্থ বছরের টি,আর কর্মসূচির আওতায় ২৪ টি প্রকল্পের অনুকুলে স্হানীয় সংসদ সদস্যের বরাদ্ধকৃত ১২ লক্ষাধিক টাকা আটকিয়ে রেখেছেন ইউএনও মাহমুদা পারভীন।
উপজেলা প্রকল্প অফিসে বার বার ধর্ণা দিয়েও কোন কাজ হয়নি।বরাদ্ধকৃত টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত গেছে। এতে করে উপজেলার ২৪ টি প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
জগনাথপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপার আব্দুর রহমান জানিয়েছেন,তার মাদ্রাসার মাঠে গর্ত ভরাট করার প্রকল্পের অধিনে ৩ টন টি,আর বরাদ্ধ(নগদ টাকা) দেয়া হয়। কাজ সমাপ্ত করা হলেও বরাদ্ধের ১ লক্ষ ৩০ হাজার ৫ শত টাকা এখনো পরিশোধ করা হয়নি। বড়পাথার পূর্বপাড়া পুরাতন জামে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক শামছুল হক টুকু জানিয়েছেন,বড়পাথর পুর্বপাড়া পুরাতন জামে মসজিদ সংস্কার প্রকল্পের অনুকুলে ১ টন টি,আর ( নগদ টাকা) বরাদ্ধ দেয়া হয়। কিন্ত আজ পর্যন্ত বরাদ্ধের ৪৩ হাজার ৫ শত টাকা পাওয়া যায়নি। একাধিক বার ইউএনও অফিসে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন সদুত্তোর দেননি।
অপরদিকে ইউএনও’র
বিরুদ্ধে মানববন্ধনকারীদের নাম পরিচয় সংগ্রহ করতে বিকাল থেকে থানা পুলিশ কাজ শুরু করেছ। একপর্যায় মামববন্ধনের ছবি সংগ্রহ করে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রভাষক সোহরাব হোসেন ছান্নু ও ভাইস চেয়ারম্যান এম সুলতান আহম্মেদ মানববন্ধনে অংশ নেওয়া যুবলীগ নেতা রেজাউল করিমের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলেন।তিনি জানিয়েছেন সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাবলুর পরামর্শেই মানববন্ধন করা হয়েছিল। তবে মানববন্ধন কর্মসূচির বিষয়ে পরামর্শ দেয়ার কথা অস্বীকার করেছেন সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাবলু।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার
( পিআইও) রাশেদুল ইসলাম জানিয়েছেন,নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প কমিটি কাগজপত্র জমা না দেয়ায় যথা সময়ে ট্রেজারিতে বিল দাখিলু করা সন্ভব হয়নি। ফলে অনুত্তোলিত টাকা হিসাবে সরকারি কোষাগারে ওই টাকা ফেরগ গেছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা পারভীন জানিয়েছেন,উন্নয়ন ও সংস্কার প্রকল্পের টাকা আটকিয়ে রাখার অভিযোগ ভিত্তিহীন। সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কমিটি ২৯ জুন তারিখে কাগজপত্র জমা দিয়েছিলেন।পরদিন ৩০ জুন তারিখে ট্রেজারি টোকেনের সফটওয়ার কেন্দ্রিয় ভাবে বন্ধ থাকায় বিল পরিশোধ করা সন্ভব হয়নি। এজন্য প্রকল্প কমিটি সমূহই দায়ী।






