ভোলা জেলা প্রতিনিধি।।
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার চাঞ্চল্যকর আব্দুর রশিদ হত্যা মামলায় ১৪ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। রবিবার ১৫ নভেম্বর এ রায় প্রদান করেন অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোঃ নুরুল ইসলাম। এসময় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ৪ আসামিকে খালাস প্রদান করেন।
হত্যা মামলার রায়ের কপি সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ওসমানগঞ্জ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড উত্তর ফ্যাসন গ্রামের বাসিন্দা আবদুর রশিদ মিয়ার সাথে দীর্ঘদিন ধরে তার প্রতিবেশি ও আত্মীয় স্বজন আবুল বাশার,নুর হোসেন,নোমানসহ মোট ১৮ ব্যক্তির সাথে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ ও মামলা চলমান ছিলো। ওই জমি জমাকে কেন্দ্র করে গত ২০১৩ সালের মে মাসের ৩০তারিখ সন্ধ্যায় আবদুর রশিদ মিয়া বাড়ি থেকে ওসমানগঞ্জ ইউনিয়ন সিমান্ত এলাকায় লালমোহন উপজেলার কর্তারহাট বাজারের মসজিদে মাগরিবের নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে আসামীরা বাড়ি সংলগ্ন সুপারি বাগানের কাছে ধারালো দা’সেনি দিয়ে কুপিয়ে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে হত্যা করে।
এঘটনায় ২০১৩ সালে নিহতের ভাই হানিফ বাদি হয়ে চরফ্যাশন থানায় ১৮জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় ১৪ আসামীকে চরফ্যাশন অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজ আদালত জাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদাণ করেছে। আসামিদের মধ্যে ৭ জন জেলে থাকলেও ৭জন পলাতক রয়েছে। এছাড়াও বাকি ৪আসামীকে আদালত খালাস প্রদান করেছে।
এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন,অতিরিক্ত পিপি মো.আমিনুল ইসলাম সরমান এবং আসামী পক্ষে ছিলেন, এ্যাডভোকেট সালাউদ্দিন,মোজাম্মেল হক,রমিজ উদ্দিন ও সিদ্দিকুর রহমানসহ ষ্টেট ডিফেন্স পক্ষে ছিলেন, মাইনুল ইসলাম সরমান।
রাষ্ট্র পক্ষের পিপি এ্যাডভোকেট আমনিুল হক সরমান বলেন, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হত্যা মামলাটি তথ্য ও প্রমান বিশ্লেষণে আমারা প্রমান করতে সক্ষম হওয়ায় ১৪ জন আসামীকে জাবজ্জীবন কারাদন্ডও অর্থদন্ড দন্ডিত করেন বিচারক মো. নুরুল ইসলাম।
এছাড়াও ৪ আসামী বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় আদালত তাদের মামলা থেকে খালাস প্রদান করেছেন।
তবে নিহত আবদুর রশিদের স্ত্রী নাজমা বেগম ও তার ছেলে মো. ইউনুস মামলার রায়ে অসন্তষ্ট প্রকাশ করে বলেন, আমার পিতার হত্যা মামলার রায়ে অন্তত প্রধান আসামীসহ বাকিদের ফাসির রায় হবে আশা করেছিলাম। আমরা উচ্চ আদালত যেতে চাই।
এম,নোমান চৌধুরী
ভোলা জেলা
০১৭১৪-৬৯৭১৩৮






