সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর সেটেলম্যান্ট অফিস দুর্ণীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। প্রিন্ট, পর্চা, নক্সা ও রেকর্ড সংশোধনের নামে চলছে রমরমা ঘুষ বাণিজ্য। আফিসের পিয়ন থেকে শুরু করে নৈশ্য প্রহরীর হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না নিরিহ ভূমি মালিকরা, তারা বড় কর্তাদের নাম ভাঙ্গিয়ে দাপটের সাথে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। এদিকে বর্তমানে প্রিন্ট পর্চা, নকশা ও ভুল সংশোধনের নামে চলছে হরিলুট, জানা যায়, সুনামগঞ্জ জেলার প্রবাসী অধ্যুষিত জগন্নাথপুর সেটেলম্যান্ট জরিপ শুরু হয় ১৯৯৫ সালে। জরিপ চলাকালে একজনের জমি অন্য জনের নামে রের্কড দিয়ে বেশ বির্তকের জন্ম দেয় সেটেলম্যান্ট কর্মকর্তারা। সেটেলম্যান্টের বিভিন্ন ধারায় কেস দিয়ে অনেকেই রের্কড ফিরে পান আবার অনেকেই পথে বসেন। বারবার মামলা দিয়ে ভোগান্তির শিকার হন জনসাধারন, তৎকালীন সময়ে এ উপজেলার মানুষ অর্থনৈতিকভাবে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হন। শুরু থেকেই সেটেলম্যান্ট অফিসের বিরুদ্ধে এই অঞ্চলের মানুষের ক্ষোভ ও অভিযোগের শেষ নেই।
বর্তমানে জগন্নাথপুর সেটেলম্যান্ট অফিসের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। উপজেলার জয়দা, সৈয়দপুর, ইকরছই, বাড়ী জগন্নাথপুর, খানপুর ও জগন্নাথপুর মৌজার প্রিন্ট পর্চা ও নক্সা বিতরণের কাজ চলছে। মৌজাগুলোর মালিকানার মোট জমির পরিমানে ভূল কিংবা মালিকদের নামের ভুলের কারণে সংশোধন করতে আশা লোকজনের গুণতে হচ্ছে বড় অংকের উৎকোচ। অভিযোগ রয়েছে, অফিসের নৈশ্য প্রহরী হিতেন্দ্র চ›ন্দ্র দাশ ও অফিসে কমর্রত নামধারী জগন্নাথপুর গ্রামের নানু মিয়া সেটেলম্যান্ট অফিসের বড় কর্তাদের নাম ভাঙ্গিয়ে নিরিহ ভূমি মালিকদের হয়রানি করছে এবং নানা অজুহাতে সিলেট জোনাল অফিসের কথা বলে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। জরিপ কায্য শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দালালির মাধ্যমে নানু মিয়া কোটি টাকার মালিক। অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রিন্ট পর্চা উত্তোলনে খতিয়ান প্রতি ১০০ টাকা নেওয়ার কথা থাকলেও নেওয়া হচ্ছে ২০০-৫০০ টাকা। নক্সা প্রতি ৫০০ টাকা নেওয়ার কথা থাকলেও নেওয়া হচ্ছে ৮০০-১৫০০ টাকা। নাম বা পরিমান সংশোধনের জন্য নেওয়া হচ্ছে বড় অংকের উৎকোচ। এ অফিস যেন মগের মুল্লুকে পরিণত হয়েছে। দেদারছে চলছে অনিয়ম দূর্ণীতি। দেখার যেন কেউ নেই। এ অফিসে টাকা হলে সবই হয়, এমনটি প্রমান পেয়েছেন নতুন প্রিন্ট পর্চা হাতে নেওয়া জনসাধারণ।
দীর্ঘ দুইযোগ ধরে এই উপজেলার মানুষ সেটেলম্যান্ট অফিসের কতিপয় কিছু কর্মকর্তা, কর্মচারি ও দালালদের কাছে জিম্মি। এবার প্রিন্ট পর্চা হাতে নিয়ে ভুক্তভোগী জনসাধারণ অনেকেই বলেন, নোটিশ ছাড়াই তাদের রেকর্ড কর্তন করা হয়েছে তারা এখন শুন্য। আবার দলিল ছাড়াই অন্যের নামে দুর্ণীতিবাজ কর্মকর্তারা রেকর্ড দিয়েছেন। বারবার টাকা খরচ করেও আমাদের নামে রের্কড ধরে রাখতে পারেনি, এখন মৌরশী সত্ব থেকে আমরা বঞ্চিত হয়েছি। মাঠ পর্চা হাতে নিয়ে অনেকেই হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন কারণ প্রিন্ট পর্চা তাদের নামে আসেনি। তবে যাদের নাম বা পরিমান ভুল তাদের সংশোধনীর আবেদন গ্রহন করা হচ্ছে, সেটাও টাকার বিনিময়ে। অফিসের নৈশ্য প্রহরি হিতেন্দ্র চন্দ্র দাশ ও অফিসের দালাল হিসেবে পরিচিত নানু মিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই। তারা বিভিন্ন মৌজার পর্চা ও নক্সা বিতরণে নিচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। এভাবে প্রতিদিন জনসাধারণ তাদের কাছে প্রতারিত হচ্ছে। এ অফিসে একদল দালাল চক্র রয়েছে। এ চক্রের কাছে প্রতিনিয়ত প্রতারনার শিকার হচ্ছেন ভূক্তভোগীরা। তাদের বিরুদ্ধে আইন শৃংখলা রক্ষা বাহিনির কঠোর দৃষ্টি একান্ত প্রয়োজন বলে দাবি জানিয়েছেন এ উপজেলার ভুক্তভোগী জনসাধারণ। এ ব্যাপারে জগন্নাথপুর সেটেলম্যান্ট অফিসের (ভারপ্রাপ্ত) পেশকার মৃনাল কান্তি সরকার ফোন করে জানান, যারা টাকা নেয় তারা এ অফিসের কেউ নয়। আমি এখন সিলেট জোনাল অফিসে আছি, এ ধরণের অভিযোগ ঠিক নয়। জগন্নাথপুর সেটেলম্যান্ট অফিসের দায়িত্বে থাকা সহকারি সেটেলম্যান্ট অফিসার মহিতোষ চন্দ্র দাশের সাথে মুঠোফোনে শত চেষ্টা করেও ফোন আলাপ করা সম্ভব হয় নাই।






