দ. সুনামগঞ্জে’র পূর্ব বীরগাঁও-এ বোনকে লুকিয়ে রেখে চাচাতো ভাইকে ফাঁসানোর চেষ্টা

 

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
দক্ষিণ সুনামগঞ্জের পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের বীরগাঁও গ্রামে অপহরণের চেষ্টা, ইভটিজিংসহ একাধিক অভিযোগ এনে বোনকে লুকিয়ে রেখে চাচাতো ভাইকে ফাঁসানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। আত্মগোপনে থেকে প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করতে পালিয়ে বেড়ানোর নাম করে নামে বেনামে অনলাইন পোর্টালে নিউজ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী যুবক ও তাঁর পরিবারের মানহানি ও সামাজিক ক্ষতি সাধন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার ( ৮ ডিসেম্বর) একাধিক গণমাধ্যমকে এই অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবারের স্বজনরা।

জানা যায়, বোনকে ইভটিজিং, অপহরণ চেষ্টা, ছিনতাইসহ একাধিক অভিযোগ উল্লেখ করে বীরগাঁও গ্রামের মৃত জয়নাল আবেদিনের ছেলে জুনেল আহমদ নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে গত ২৫ নভেম্বর উপজেলা নির্বাহী বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন একই গ্রামের আব্দুল মতলিবের ছেলে হিমেল নামে আরেক যুবক। অভিযোগের বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানাকে নির্দেশনা প্রদান করেন দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেবুন নাহার শাম্মী।

অভিযোগে সত্যতা খোঁজতে তদন্তে নামে পুলিশ। তন্তের এক পর্যায়ে কেঁচো খুরতে গিয়ে সাপ বের হয়ে আসে। অভিযোগের পক্ষে বিপক্ষে নানা প্রমাণাদি সংগ্রহ করেন তদন্ত কর্মকর্তা এস আই বাবুল।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত যুবক পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের বীরগাঁও গ্রামের আপন চাচাতো ভাই। অভিযোগকারীর চিকিৎসক বোনের সাথে জুনেল আহমদ নামে এই যুবকের প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিলো দীর্ঘদিন ধরে । স্থানীয় বীরগাঁও বাজারে জুনেল আহমদ ও চিকিৎসক মেয়েটি ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। একই মোটরসাইকেল যুগে প্রতিদিনই কর্মস্থলে যেতেন দুজন।

ব্যবসায়িক সম্পর্ক ও নিকট আত্মীয় সম্পর্ক হওয়ায় এক পর্যায়ে দুজনের সম্পর্ক গভীর হতে থাকে। চলতি বছরের এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত সরাসরি সাক্ষাৎ, মুঠোফোনে আলাপচারিতা, মেসেজ আদান-প্রদান, ইমু, ফেইসবুক ও মেসেঞ্জারের মাধ্যমে যোগাযোগ করে এই সম্পর্ক অব্যাহত থাকে। হাতের লেখা চিঠি আদান-প্রদান করার তথ্যও পাওয়া যায় । এক পর্যায়ে এই সম্পর্কের কথা জানাজানি হয়ে গেলে দুই পরিবার থেকে বাঁধা আসে।

সূত্র জানায়, প্রেমের সম্পর্ক স্থায়ী রূপ দিতে গত ১৩ নভেম্বর পূর্ব পাগলা ইউনিয়ের কাড়ারাই গ্রামে কাজীর শরণাপন্ন হয়ে বিয়ের প্রস্তুতি নেন চিকিৎসক মেয়ে ও জুনেল আহমদ। তবে বিয়ের আইনী প্রমানাদি ও জুনেল আহদদ প্রথম পক্ষের স্ত্রীর অনুমতি না থাকায় বিয়ে পড়ানো থেকে বিরত থাকেন কাজী মাসুক মিয়া।

বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে কাজী মাসুক মিয়া বলেন, ১৩ নভেম্বর রোজ শুক্রবার পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়ের এই তরুণতরুণী আমার অফিসে আসে বিয়ে করতে। তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও বিয়ের সাক্ষী না থাকায় বিয়ে না পড়িয়ে আমি তাদের ফেরৎ পাঠিয়েছি।

অভিযুক্ত জুনেল গণমাধ্যমকে জানান, চিকিৎসক এই মেয়েটির সাথে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। মেয়েটির ভাই হিমেলের সাথে পূর্ব বিরোধ রয়েছে তার। গত ১৯ নভেম্বর মেয়েটি স্ত্রীর মর্যাদা পেতে তাঁর বাড়িতে আসতে চাচ্ছিলো। হিমেল মেয়েটিকে মারধোর করে তাকে মামলা দেয়া হুমকি প্রদান করে চলে যায়।

জুনেল বলেন, আমাকে ফাঁসাতে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। মেয়েটির সাথে যেখানে প্রেমের সম্পর্ক ছিলো সেখানে ইভটিজিং বা ধর্ষণের চেষ্টা করা অবান্তর। প্রেমের সম্পর্কের যতেষ্ট প্রমাণ আছে আমার কাছে। মেয়েটিকে জিম্মি করে মিথ্যা অভিযোগ করে আমার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করছে সে। মিথ্যা প্রপাগান্ডার মাধ্যমে আমার ও আমার পরিবারের মানহানি করা হচ্ছে।
জুনেল আরও বলেন, হিমেল জোরপূর্বক তাঁর বোনকে সিলেট নিয়ে গিয়ে বাসাভাড়া নিয়ে অবস্থান করে পালিয়ে বেড়ানোর নাটক করছে। নামে বেনামের অনলাইন পোর্টালে ভূয়া নিউজ করছে। আমি নির্দোষ। পুলিশ বিষয়ি তদন্ত করে দেখুক। আসল সত্য বের হয়ে আসবে।

এ ব্যাপারে অভিযোগকারী হিমেলের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের ব্যাপারে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার ওসি কাজী মোক্তাদির বলেন, পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুতই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থ গ্রহণ করা হবে।

০৮-১২-২০২০

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ

এই সংবাদটি 202 বার পঠিত হয়েছে