- জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী,
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের দিনক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি’র নিজ উপজেলা দক্ষিণ সুনামগঞ্জে প্রস্তুত হচ্ছেন দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। বিশেষ করে এখানে, ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীকের প্রত্যাশী সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদ প্রার্থীদের প্রচারণা চোখে পড়ার মতো। উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার লক্ষে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন
দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ৪৯জন স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেত। ইতি মধ্যে তারা সকলেই নিজের নির্বাচনী এলাকায় ছবি সংবলিত ব্যানার, ফেস্টুন ও লিফলেট বিতরনসহ কর্মী সমর্থকদের মাধ্যমে প্রার্থীতার জানান দিচ্ছেন। উপজেলা সদর ও রাজধানীর ঢাকায় দৌঁড়াচ্ছেন দলীয় মনোনয়নের আশায়। দক্ষিণ সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ-৩) আসনের এমপি পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান এর আশির্বাদপুষ্ট হতে জোড় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী এসব চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। দলীয় মনোনয়ন পেতে সকলেই বিভিন্ন ভাবে তদ্বির শুরু করেছেন। তবে কয়েক জন দায়িত্বশীল স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা বলছেন,
এলাকার সকল নেতা কর্মীদের নিয়ে আলোচনা করেই দলের ত্যাগী ও জনবান্ধব একজন যোগ্য ব্যক্তিকেই নৌকার মাঝি করা হবে।
উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে, খোঁজন নিয়ে জানা যায়, এখানের প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নেই দলীয় প্রতিক নৌকার প্রত্যাশী একাধিক প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন। ৪৯ জন প্রার্থী নৌকা প্রতীক পেতে বিভিন্ন ভাবে তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। এরা প্রত্যেকেই দলের কর্মী হিসেবে দলীয় মনোনয়নে নিজের দখলে নৌকা প্রতিক ভাগিয়ে নিতে যার যার অবস্থান থেকে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছন । এর পাশা পাশি নিজ নিজ ইউনিয়নে কর্মী সমর্থকদের সাথে নিয়ে মত বিনিময় সহ প্রচার প্রচারনা চালিয় যাচ্ছেন। উপজেলা সদরের জয়কলস ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক চেয়ে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী প্রচারণায় রয়েছেন।
জয়কলস ইউনিয়নঃঃ
এখানে ৮জন প্রার্থী নৌকা প্রতিক পেতে চেষ্টা তদ্বির চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা হলেন, বর্তমান চেয়ারম্যান মাসুদ মিয়া, সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা আবদুল লতিফ কালাশাহ, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল বাসিত সুজন, মিশিগান আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি হাজি আপ্তাব মিয়া, উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি রাজা মিয়া, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান সুজন, যুবলীগ নেতা হাসান মাহমুদ তারেক ও মটর শ্রমিক লীগ নেতা আবদুল আউয়াল।
পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নঃঃ এখানে আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী বর্তমান চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম, আওয়ামীলীগ নেতা শাহীন মিয়া, দেবাংশু শেখর দাস, হযরত আলী, জসিম উদ্দিন, জাহাঙ্গীর আলম ও সৈয়দ হোসেন রানা।
দরগাপাশা ইউনিয়নঃঃ
এখানে, বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা মনির উদ্দিন, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদ সালেহ আহমদ চৌধুরী হীরা, আওয়ামীলীগ নেতা মাহবুল হক শাহীন, ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক আবু খালেদ চৌধুরী রুবেল, এ্যাডভোকেট আলী শাহান ও আব্দাল চৌধুরী।
পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নঃঃ
এখানে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন গত নির্বাচনে নৌকা প্রতিক নিয়ে প্রাতিদ্বন্দ্বীতাকারি প্রার্থী ইয়াজুল ইসলাম, সাবেক চেয়ারম্যান শহিদুর রহমান শহিদ ও ইংল্যান্ড প্রবাসী আওয়ামী রাজনীতিক রুবেল মিয়া। এছাড়াও বর্তমান চেয়ারম্যান নূর কালামও নৌকা প্রতীক প্রত্যাশী হবেন বলে গুঞ্জন রয়েছে ইউনিয়নব্যাপী।
পূর্ব পাগলা ইউনিয়নঃঃ
উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি রফিক খান, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি হাজী সৈয়দুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল করিম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এনামুল কবির এনাম ও আওয়ামীলীগ নেতা আসাদুর রহমান।
পাথারিয়া ইউনিয়নঃঃ
এখানে দলীয় প্রতিক নৌকার প্রত্যাশী প্রবাসী আওয়ামীলীগ নেতা শামসুল ইসলাম রাজা, সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফা মিয়া, যুবলীগ নেতা বাবুল হোসেন ও আওয়ামী তথ্য ও প্রযুক্তিলীগের উপজেলা ভাপতি শহিদুল ইসলাম।
শিমুলবাক ইউনিয়নঃঃ
এ ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান জিতু, সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ মিয়া, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান, যুক্তরাজ্য প্রবাসী আওয়ামীলীগ নেতা শাহীনুর রহমান শাহীন দলীয় প্রতিক নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী।
পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নঃঃ সবচেয়ে কম প্রার্থী মনোনয়ন পেতে কাজ করছেন এ ইউনিয়নে । ৩জন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী নৌকা প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করা লক্ষে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন । তারা হলেন বর্তমান চেয়ারম্যান নূরুল হক, পশ্চিম পাগলা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান জগলুল হায়দার এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলম টিপু।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রভাষক নূর হোসেন বলেন, মন্ত্রী মহোদয় আমাদের অভিভাবক। তাঁর নির্দেশে আমরা কাজ করি। আমরা সৎ, যোগ্য ও শিক্ষিত মানুষকে ইউনিয়নে দেখতে চাই। যারা এর আগেরবার দলের কমান্ড মেনে ত্যাগ স্বীকার করেছেন তাদেরকে প্রাধান্য দিয়ে প্রার্থী বাচাই করার জন্য অনুরোধ থাকবে। আমরা প্রতিযোগিতামূলক একটি সুন্দর নির্বাচন কামনা করি।
উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান বলেন, আমরা এখনো দেখছি। অনেকেই যোগাযোগ করছেন। প্রার্থীতা চেয়ে প্রচারণা সকলেই করতে পারেন। এটা তাদের রাজনৈতিক অধিকার। আমরা অবশ্যই যোগ্য ব্যক্তিদের প্রাধান্য দিয়ে মনোনয়ন দেওয়ার অনুরোধ করবো।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের একান্ত রাজনৈতিক সবিচ মো. হাসনাত হোসেন বলেন, আমাদের অভিভাবক পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি একজন স্বজ্জন রাজনীতিবিদ। আমরা চাই উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে স্বজ্জন ব্যক্তিরা চেয়ারম্যান হোক। আমরা এখনো মনোনয়ন চাওয়া ব্যক্তিদেরকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। যারা প্রচারণা করছেন তারা এটা করতেই পারেন। নির্লোভ, জনবান্ধব, পরোপকারী ও ত্যাগী নেতাদের আমরা মনোনয়নের ব্যপারে প্রাধান্য দেবো। অবশ্যই নৌকাকে আমরা এমন কারো হাতে তুলে দেবো না যে, নৌকার ভরাডুবি হয়। যোগ্য মাঝি ঠিক করে তার হাতেই নৌকা তুলে দেবো। আমরা নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখছি।##






