- জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীঃঃ
ছাতকের কৃতিসন্তান ডা. চৌধুরী জালাল উদ্দিন মুর্শেদ রুমী, মৌলভীবাজার জেলার সিভিল সার্জন হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন। সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত এই চিকিৎসককে মৌলভীবাজার জেলার সিভিল সার্জন হিসেবে পদায়ন করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়। কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন কর্মস্থলে যোগদান করবেন তিনি।
ডা. চৌধুরী জালাল উদ্দিন মুর্শেদ ২৫তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে ২০০৫ সালে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহকারী সার্জন হিসেবে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন। ২০১৬ সালে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে বিশ্বম্ভরপুরে পদায়ন করা হয় তাঁকে।
ছাতক উপজেলার ছৈলা-আফজলাবাদ ইউনিয়নের ছৈলা গ্রামের ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সন্তান ডাঃ রুমী, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মরহুম অ্যাডভোকেট চৌধুরী মহবুব আহমদ ও সৈয়দা ফাতেমা বেগমের জ্যৈষ্ঠ পুত্র।
ডা. রুমী সুনামগঞ্জ জেলা শহরের কালিবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়, সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ ও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে অধ্যয়ন করেছেন।
বর্তমানে সুনামগঞ্জ শহরের কালিবাড়ী আবাসিক এলাকার বাসিন্দা তিনি। সুনামগঞ্জ পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান, সাবেক এমএলএ ও বিশিষ্ট আইনজীবী মফিজ চৌধুরী তাঁর দাদা এবং সুপ্রিম কোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ এবিএম মাহমুদ হোসেন তাঁর নানা।
ডা. চৌধুরী জালাল উদ্দিন মুর্শেদ রুমী বলেন, মানুষের সেবা করার ব্রত নিয়েই চিকিৎসা পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করেছি। সিভিল সার্জন হিসেবে পদায়ন হওয়ায় সদাশয় সরকারের কাছে কৃতজ্ঞতা। এখন আরও বড় পরিসরে সাধারণ মানুষের সেবা করার সুযোগ পাব।
ডা. চৌধুরী জালাল উদ্দিন মুর্শেদ রুমী একটি আলোকিত পরিবারের সন্তান। পরিবারের প্রায় সকলেই প্রতিষ্ঠিত ও স্বীয় ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন। রুমীর দাদা ছাতকের ছৈলা গ্রামের প্রখ্যাত আইনজীবী মফিজ চৌধুরীর ভাই মুসলিম চৌধুরী ছিলেন ভাষাসৈনিক ও শিক্ষাবিদ। সিলেটের প্রথম জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ছিলেন তিনি। মুসলিম চৌধুরীর তিন ছেলে, রুমীর চাচা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব চৌধুরী মুফাদ আহমদ, প্রয়াত স্থপতি অধ্যাপক চৌধুরী মুশতাক আহমদ ও সিলেটের খ্যাতিমান সাংবাদিক চৌধুরী মুমতাজ আহমদ।
মফিজ চৌধুরীর তিন ছেলে, চৌধুরী মহবুব আহমদ, চৌধুরী মনসুর আহমদ ও চৌধুরী মনজুর আহমদ। চৌধুরী মনসুর সুনামগঞ্জের রাজনীতির এক উজ্জ্বল মুখ ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন সুনামগঞ্জ পাবলিক লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার ক্রিকেট বিভাগের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চৌধুরী মনজুর আহমদ চিটাগাং ইলেক্ট্রিক অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানীর ম্যানেজার ছিলেন।
মফিজ চৌধুরী ও মুসলিম চৌধুরীর আরেক ভাতিজা, রুমীদের চাচা আছদ্দর আলী মোক্তার ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক। আছদ্দর আলীর ছেলে শহীদ পুলিশ পরিদর্শক চৌধুরী আবু কয়ছর দিপু, যিনি কয়েক বছর আগে সিলেটের একটি জঙ্গি আস্তানার জঙ্গিদের আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে মৃত্যুবরণ করেন। ডা. রুমীর আরেক চাচাতো ভাই, (চৌধুরী মনসুরের ছেলে) চৌধুরী মোয়াজ্জেম আহমদ সানি মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের উপসচিব হিসেবে কর্মরত আছেন।##






